বাড়ছে না হজ নিবন্ধনের সময়, ২৪ সেপ্টেম্বরের পর আর সুযোগ নেই
তাহের মাহমুদ:
২০২৭ সালের হজে গমনেচ্ছুদের নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হজ নিবন্ধনের নির্ধারিত সময় শেষ হবে। ওই সময়সীমা পার হওয়ার পর নিবন্ধনের জন্য আর কোনো সময় বৃদ্ধির সুযোগ থাকবে না। ফলে হজে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৭ সালের হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি, হজ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করার অনুরোধ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলছে, সৌদি সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা নির্ধারণ করে সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এ কারণে নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর পরবর্তী প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য হাতে পর্যাপ্ত সময় রাখা প্রয়োজন। তাই নির্ধারিত সময়ের পর নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর সুযোগ থাকছে না।
২৭ জুলাই শুরু নিবন্ধন:
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালে হজে গমনেচ্ছুদের জন্য গত ২৭ জুলাই থেকে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর আর সময় বৃদ্ধি করা হবে না—এ বিষয়টি আগেই জানিয়ে দিয়েছে মন্ত্রণালয়। ফলে যারা এখনো নিবন্ধন করেননি, তাদের শেষ সময়ের অপেক্ষা না করে দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হজ নিবন্ধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সি ও ব্যাংকগুলোকেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের কার্যক্রম শেষ করতে বলা হয়েছে। হজ নিবন্ধনের সময়সীমা নির্ধারণের পেছনে সৌদি সরকারের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা ও প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী সৌদি পর্বের অর্থ প্রেরণসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া হজযাত্রীদের মেডিকেল চেকআপ, ফিটনেস সনদ সংগ্রহ, টিকাদান, প্রশিক্ষণ এবং হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রমও সম্পন্ন করতে হবে। এসব কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার প্রয়োজন থাকায় নিবন্ধনের সময়সীমা আর বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশের হজ কোটা ৭৮ হাজার ৫০০:
২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের জন্য মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনের হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত কোটার তুলনায় এখন পর্যন্ত নিবন্ধিত হজযাত্রীর সংখ্যা অনেক কম। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ২০২৭ সালের হজে মোট ৩ হাজার ৭৪১ জন নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করেছেন ১ হাজার ৬৫ জন। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করেছেন ২ হাজার ৬৭৬ জন। অর্থাৎ নির্ধারিত হজ কোটা ৭৮ হাজার ৫০০ জনের বিপরীতে এখন পর্যন্ত নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৭৪১ জনের। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আরও বিপুলসংখ্যক হজযাত্রীর নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার বাকি রয়েছে।
শেষ সময়ে ভিড় এড়ানোর পরামর্শ:
হজ নিবন্ধনের সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না জানিয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই বিজ্ঞপ্তির ফলে আগ্রহী হজযাত্রীদের এখনই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিবন্ধনের শেষ সময়ে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি ও এজেন্সি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে গেলে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিবন্ধন সম্পন্ন করা প্রয়োজন। মন্ত্রণালয়ও হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসহ সব পক্ষকে নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।
নিবন্ধনের পর শুরু হবে প্রস্তুতির কাজ:
নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর হজযাত্রীদের সৌদি আরব পাঠানোর আগে বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে মেডিকেল পরীক্ষা, ফিটনেস সনদ, টিকাদান এবং হজ প্রশিক্ষণের মতো কার্যক্রম রয়েছে। এ ছাড়া চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী সৌদি পর্বের অর্থ প্রেরণসহ অন্যান্য প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এসব কার্যক্রমের সঙ্গে সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সময়সীমাও যুক্ত থাকায় নিবন্ধন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়েই শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর আর নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হবে না বলেও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।









