হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
নেছার আহমদ:
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ লক্ষ্যে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশে বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘প্রতিটি হৃদস্পন্দনই জীবন’ শীর্ষক গণমুখী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ফাজিলা-তুন-নেসা মালিক, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসেন এবং অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের যুগ্ম মহাসচিব নওশাদ হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে। তিনি জানান, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ১০টি এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৫০টি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকার হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ নিজ নিজ এলাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানান মন্ত্রী।
স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবার সর্বোচ্চ বাজেট দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুধু হাসপাতাল ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করলেই স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হবে না। এর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নিশ্চিত করাও জরুরি। এ কারণে চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি নার্স নিয়োগের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা গেলে দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রোগীদের সেবার মানও উন্নত করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্ব হার্ট দিবসের অনুষ্ঠানে হৃদরোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে হবে না; রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণে গুরুত্ব দিতে হবে। হৃদরোগ প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায় থেকে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনা এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
দেশে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, সুস্থ থাকতে হলে মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। রোগ প্রতিরোধে ব্যক্তি পর্যায়ের সচেতনতার পাশাপাশি স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।সেমিনারে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে শুধু স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে শুরু থেকেই ঝুঁকির বিষয়গুলো চিহ্নিত করা জরুরি। তিনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং তামাক ব্যবহারের মতো হৃদরোগের ঝুঁকিগুলো নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেন। এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে হৃদরোগের প্রকোপ অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি স্বাস্থ্যশিক্ষা, জনসচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি। বিশ্ব হার্ট দিবসের এ আয়োজনের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে হৃদরোগ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও উঠে আসে।









