প্রতিটি জেলা সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেন’ করার ঘোষণা আইজিপির
মানব কথা: জনগণের মধ্যে পুলিশ বাহিনী নিয়ে তৈরি হওয়া ‘আস্থার সংকট’ কাটাতে প্রতিটি জেলার সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেন’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পুলিশের নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ এমনভাবে জনগণকে সেবা দিতে চায়, যাতে এই বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর প্রশাসনের রদবদলের ধারাবাহিকতায় গেল ২৪ ফেব্রুয়ারি মো. আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশের আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।
পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে আইজিপি প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আসেন সোমবার। সেখানে তিনি চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সসহ একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানান।
এছাড়া তদন্তের গুণগত মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া কথাও বলেছেন তিনি। এছাড়া মৌলবাদীদের উত্থান রোধে পুলিশের ‘সজাগ দৃষ্টি’ থাকবে বলে সতর্ক করেছেন।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ‘ছাত্র-জনতার উপর গুলি ছোড়ার অভিযোগে’ পুলিশের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন আইজিপি।
পুলিশ প্রধান বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি জনগণ রাষ্ট্রের মূল শক্তি। তাই আমরা সবসময় জনগণের পাশে থেকে তাদেরকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর। জনবান্ধন পুলিশ গড়তে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।”
তিনি বলেন, “বিগত সময়ে পুলিশের সঙ্গে জনগণের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। জনআস্থা উদ্ধারে আমাদেরকে সচেষ্ট থাকতে হবে। এজন্য জেলা সদরের থানাকে জিরো কমপ্লেইন থানা হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।”
সেসব থানাতে একজন সার্কেল এএসপি ওই থানার কার্যক্রম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা এমনভাবে জনগণকে সেবা দিতে চাই যাতে থানায় আগত মানুষ হাসি মুখে থানা থেকে ফিরে যেতে পারে। পুলিশের বিরুদ্ধে যাতে কোনো ধরনের কমপ্লেন না থাকে। পুলিশের রিঅ্যাকশন টাইম নূন্যতম পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে।”
দেশের সংকটকালীন মূহুর্তে পুলিশ সবসময় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সাথে’ দায়িত্ব পালন করার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়েছেন মহাপরিদর্শক।
নতুন সরকারের অঙ্গীকারের মত দেশের স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশেরও ‘অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার’ বলে ভাষ্য বাহিনী প্রধানের।
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “আমি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দলীয় কোন বিবেচনার সুযোগ নাই।
ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ব্লক রেড দিয়ে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং চলমান আছে।”
চাঞ্চল্যকর কোনো ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শসহ যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন আইজিপি।
তিনি বলেছেন, ‘‘গণধর্ষণ, ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’
তদন্তের গুণগত মান নিয়ে তিনি বলেন, “সিআইডিকে আরো আধুনিকীকরণের মাধ্যমে মামলা তদন্তের গুণগত মান বাড়াতে চাই। মামলার তদন্তকার দ্রুত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’’
আসন্ন ঈদ নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিষয়ে আইজিপি বলেন, “ঈদের সড়ক মহাসড়ক নৌ ও রেলপথে ঘরমুখ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা ইতিমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। মহাসড়কে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, দস্যুতা হতে দেওয়া হবে না।”
মহাসড়কে ডাকাতি রোধে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। র্যাব ও মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছে। দেশের প্রধান প্রধান মার্কেটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। চুরি-ছিনতাই রোধে ‘কার্যকর ব্যবস্থা’ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঈদকে সামনে রেখে পোশাক শিল্পের শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা নিয়ে প্রায়ই অসন্তোষ তৈরি হয়, এবার সে আশঙ্কা মাথায় রেখে পৃথক পরিকল্পনার কথা বলেছেন আইজিপি।
তিনি বলেন, “এমন গার্মেন্টস শিল্প চিহ্নিতকরণের পাশাপাশি শ্রমিক নেতা, মালিক, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।”
















