চামড়ার বাজারে ধস, নামমাত্র দামে বিক্রি না হওয়ায় ফেলে দিচ্ছেন অনেকে
মানব কথা:পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারদরের কোনো মিল না থাকায় হতাশ বিক্রেতারা। অনেক জায়গায় নামমাত্র দামেও চামড়া বিক্রি না হওয়ায় সেগুলো ফেলে দেওয়া কিংবা মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন চামড়ার আড়ত ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে গরু ও ছাগলের চামড়া। ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় থাকলেও বিক্রেতাদের মুখে ছিল হতাশা। রাজধানীর পোস্তা এলাকায় বড় গরুর চামড়া বিক্রি করতে আসা কয়েকজন জানান, ভালো মানের একটি বড় চামড়ার দাম সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা বলা হচ্ছে। সামান্য কাটা বা ছিদ্র থাকলে দাম নেমে যাচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকায়। তাদের অভিযোগ, একটি সিন্ডিকেট ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্যানারি মালিকদের বকেয়া পরিশোধ না হওয়া এবং নগদ অর্থ সংকটের কারণেই বাজারে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম–এও একই চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা শত শত চামড়া নিয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বাজারে এলেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাননি। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়বে—এমন আশা করলেও শেষ পর্যন্ত অনেকেই চামড়া নামমাত্র দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। কেউ কেউ বিক্রি না করতে পেরে রাস্তায় ফেলে চলে যান। সাতক্ষীরা জেলায় চামড়া বিক্রি না হওয়ায় মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিপাকে পড়েছে। লোকসান ও দুর্গন্ধের হাত থেকে বাঁচতে বিভিন্ন স্থানে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই অবস্থা সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলাতেও। কোরবানির পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় চামড়া সংগ্রহ শুরু হলেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। কোথাও কোথাও কোনো ব্যবসায়ী না আসায় অনেকে চামড়া উপজেলা সদরে নিয়ে যান। সেখানেও আশানুরূপ দাম না পেয়ে কেউ চামড়া ফেলে রেখে চলে যান, আবার কেউ স্থানীয় মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে দান করে দেন। চামড়ার বাজারে এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা দ্রুত বাজার স্থিতিশীল করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।









