ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলমুখী মানুষের ঢল, বরিশালের লঞ্চ-বাস টার্মিনালে উপচে পড়া ভিড়
মানব কথা:পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের হাজারো মানুষ। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে রাজধানীসহ বিভিন্ন গন্তব্যে ফিরতে বরিশালের নৌ ও সড়কপথে দেখা গেছে ব্যাপক যাত্রীচাপ। রোববার (৩১ মে) বিকেল থেকে বরিশাল নদীবন্দর এবং কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। রাজধানীগামী যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে বরিশাল নদীবন্দরে প্রস্তুত রাখা হয় ঢাকা-বরিশাল রুটের ৮টি লঞ্চ। নদীবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই লঞ্চে উঠতে শুরু করেছেন। অনেকে ডেকে জায়গা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও কেবিনের টিকিট আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছুটা ভোগান্তির কথাও জানান। সন্ধ্যায় কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বরিশাল জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন এবং বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী নির্দেশনা দেন, কোনো লঞ্চে যেন ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা না হয়। একই সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে বরিশালের কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালেও ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কাউন্টারগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অনেক যাত্রী সরাসরি টার্মিনালে এসে টিকিট সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ কেউ আগেই বুকিং দিয়ে বাসের অপেক্ষায় রয়েছেন। বাস কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের ছুটি শেষে ঢাকাগামী যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে এবং সোমবার থেকে এই চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে। সরকার নির্ধারিত ভাড়াতেই যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের। তবে কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেন, কিছু লোকাল বাস নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি আদায় করছে। পাশাপাশি উন্নতমানের পরিবহনের টিকিটও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। বরিশাল কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, কর্মস্থলমুখী মানুষের চাপ সামাল দিতে পরিবহন মালিকরা প্রস্তুত রয়েছেন। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত ভাড়া নিশ্চিত করতে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে বরিশাল সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সড়ক ও নৌপথে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।









