আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ আর নেই

সময়: 3:42 pm - June 1, 2026 |

মানব কথা :ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিসসহ বিভিন্ন জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তোফায়েল আহমেদ। গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে গত বছরের ২০ নভেম্বর স্ত্রী আনোয়ারা আহমেদকে হারান তিনি। তাদের একমাত্র কন্যা ডা. তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নী একজন চিকিৎসক। জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন রাজধানীর একটি হাসপাতালে কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। তার পিতা মৌলভী আজহার আলী এবং মাতা ফাতেমা বেগম।শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৬০ সালে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬২ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯৬৪ সালে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে তার যাত্রা শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৬৮-৬৯ সালের গণজাগরণ ও ছাত্র আন্দোলনে ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করার ঘোষণা দেন তিনিই। ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুজিব বাহিনীর চার আঞ্চলিক প্রধানের একজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মোট নয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা থেকে বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে কারাবরণও করতে হয়েছে তাকে। ১৯৭৫ সালের পর টানা ৩৩ মাস কারাভোগসহ অসংখ্যবার কারাবন্দি ছিলেন তিনি।তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর