নতুন পে-স্কেল: বেতন বাড়লেও বাস্তবায়নে জটিলতা

সময়: 3:57 am - July 5, 2026 |

মানব কথা:সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) ১ জুলাই থেকে কার্যকরের কথা থাকলেও এখনো এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হয়নি। ফলে নতুন বেতন, ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভাতা কার্যকর এবং অবসর-সুবিধা নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। তবে গেজেট না হওয়ায় বেতন কাঠামোর বিস্তারিত এখনো প্রকাশ পায়নি।অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেলের খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করেই গেজেট প্রকাশ করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহের মধ্যে গেজেট জারি হতে পারে। তবে নতুন বেতন ১ জুলাই থেকেই কার্যকর ধরা হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পাবেন।

বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও জিপিএফসহ প্রায় সব আর্থিক কার্যক্রম ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এবং আইবাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর করতে গেলে সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে, যা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, আগের মতো হাতে পে-ফিক্সেশন করার সুযোগ এখন নেই। একাধিক ধাপে মূল বেতন কার্যকর হলে একই কর্মচারীর জন্য বারবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তনের পাশাপাশি পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড এবং অবসর-সুবিধা নির্ধারণেও জটিলতা দেখা দিতে পারে।সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অবসরের দ্বারপ্রান্তে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কারণ পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও ছুটির নগদায়নসহ অধিকাংশ আর্থিক সুবিধা শেষ প্রাপ্ত মূল বেতনের ওপর নির্ভরশীল। ধাপে ধাপে বেতন কার্যকর হলে এসব সুবিধা সমন্বয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এ পরিস্থিতিতে আব্দুল মালেক প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করার প্রস্তাব দিয়েছেন। পরে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের আশঙ্কা থাকবে না।

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, উচ্চপর্যায়ের একটি সচিব কমিটি নতুন পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার সামঞ্জস্য এবং প্রশাসনিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরও বলেছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে এর ফলে মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলার পাশাপাশি বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখাও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর