টঙ্গীতে মসজিদ কমিটিতে পদ না পাওয়ায় দেখে নেওয়ার হুমকি স্থানীয় বিএনপি নেতার

সময়: 6:03 am - July 13, 2026 |

স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুরের টঙ্গীর পশ্চিম থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের গুটিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নতুন কমিটিতে স্থান না পেয়ে মসজিদে তালা মারার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট জালাল খান (সারোয়ার) গাজীপুর জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক এবং আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের স্বঘোষিত কাউন্সিলর প্রার্থী। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩রা জুলাই রাতে মসজিদের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, বৈঠক চলাকালে জালাল খান সেখানে উপস্থিত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাকে আহ্বায়ক কমিটিতে রাখা হয়নি উল্লেখ করে কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না বলে ঘোষণা দেন। একপর্যায়ে মসজিদে তালা লাগিয়ে দেয়ার হুমকিও দেন বলে দাবি করেন বৈঠকে উপস্থিত সদস্যরা।
ঘটনার পর টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নতুন কমিটি গঠনের কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, “মসজিদ একটি পবিত্র ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। সেখানে পদ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা তালা মারার হুমকি কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর ধরে পরিচালিত মসজিদ কমিটি নিয়ে আগে কোনো বিরোধ ছিল না। সম্প্রতি নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হলে গ্রামের পাঁচটি পাড়ার নিয়মিত মুসল্লি ও সম্মানিত ৫১ জন ব্যক্তিকে নিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। জুমার নামাজের পর তাদের নাম ঘোষণা করা হয়। ওই তালিকায় জালাল খানের নাম না থাকলেও তখন কোনো আপত্তি ওঠেনি।
সেদিন রাতেই এশার নামাজের পর আহ্বায়ক কমিটির বৈঠক শুরু হলে সেখানে গিয়ে জালাল খান আপত্তি জানান বলে অভিযোগ। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্যের দাবি, তিনি বলেন—জেলা প্রশাসন ও থানার ওসির হস্তক্ষেপ ছাড়া কোনো কমিটি গঠন করা যাবে না। একপর্যায়ে কমিটির কাগজপত্র ছুড়ে ফেলে দিয়ে মসজিদে তালা লাগানোর হুমকি দিয়ে চলে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তার বাবা আমজাদ হোসেন তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। পরে গোলমালের খবর পেয়ে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী মসজিদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন এবং ঘটনার নিন্দা জানান।
আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাজী মো. এমরান সরকার বলেন, মসজিদের বিধিমালা অনুযায়ী নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়কারী মুসল্লিদের মধ্য থেকেই আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখানে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা ছিল না। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
একই কমিটির সদস্য ও স্থানীয় বিএনপির নেতা ইউনুছ আলী বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির আচরণে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। দলের নাম ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করায় বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মসজিদের মুতাওয়াল্লি হাজী তাইজুল ইসলাম বলেন, মসজিদের মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অনাকাঙ্ক্ষিত। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে মসজিদের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও ব্যাহত হবে।
এদিকে স্থানীয় গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. খায়রুন্নেছা অভিযোগ করেন, অতীতেও বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য জালাল খান চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। যোগ্যতা না থাকায় তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। এরপর তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ তোলা হয়। উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা সরাসরি অভিভাবকদের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পাঠানো হয়।
তবে অ্যাডভোকেট জালাল খান (সারোয়ার) তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মসজিদে তালা মারার হুমকি কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ সত্য নয়।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর