চামড়ার বর্জ্য থেকে প্রোটিন ফিলার, জেলাটিন ও কোলাজেন উৎপাদনের উদ্যোগ

সময়: 6:35 am - July 28, 2026 |

মানব কথা:চামড়া শিল্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিশ্চিত করতে চামড়ার বর্জ্য থেকে প্রোটিন ফিলার, জেলাটিন ও কোলাজেন উৎপাদনের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করেছে চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জে ডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোং লিমিটেড। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সূত্র জানায়, ক্রোম পৃথক করে (ক্রোম সেপারেশন) প্রোটিন ফিলার উৎপাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জে ডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোং লিমিটেডের সঙ্গে ইতোমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। বিসিক জানায়, প্রতিষ্ঠানটি সাভারের নয়ারহাট এলাকায় নিজস্ব ইটিপিসহ (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) একটি বড় কারখানা স্থাপন করেছে এবং বাণিজ্যিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করেছে। এ কারখানায় ট্যানারির বর্জ্য, যেমন চামড়ার টুকরা ও ক্রোম শেভিং ডাস্ট পুনর্ব্যবহার করে উচ্চমূল্যের রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি সাভারের নয়ারহাটে ৯ একর জমির ওপর একটি প্ল্যান্ট পরিচালনা করছে। এখান থেকে জেলাটিন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোটিন পাউডারসহ বিভিন্ন পণ্য চীন ও রাশিয়ায় রপ্তানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ জে ডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোং লিমিটেডের দোভাষি পারভেজ খান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ‘আমরা এখনও পুরোদমে উৎপাদনে যেতে পারিনি। কারখানার নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। নির্মাণকাজ শেষ হলে সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে উৎপাদিত সব ধরনের চামড়ার বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা আমাদের হবে।’ তিনি বলেন, সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে বছরে প্রায় ২০ হাজার টন চামড়ার বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এসব কাঁচা চামড়ার টুকরা থেকে জেলাটিন ও ক্যাপসুল তৈরির কাঁচামাল উৎপাদনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। বিসিক-এর লেদার সেলের প্রধান মিজানুর রহমান বাসস’কে বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পরিবেশ দূষণ কমবে। একই সঙ্গে চামড়া শিল্পে নতুন মূল্য সংযোজন হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চামড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো- অরিয়ন ট্রেডিং করপোরেশন, আইয়ুব ব্রাদার্স ট্যানারি লিমিটেড, রেজা লেদার এক্সপোর্ট, এ এন ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড, আলমগীর লেদার কমপ্লেক্স এবং ফেনী ট্যানারি প্রাইভেট লিমিটেড। সূত্র : বাসস

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর