হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
মানব কথা: দেশে হামের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১৩৭ শিশু, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নতুন করে উদ্বেগে ফেলেছে। রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু না হলেও হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৭৪৮ শিশু এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ শিশু মারা গেছে। সব মিলিয়ে এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৮৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৫ জন শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ২২ জন। অর্থাৎ একদিনেই হাম ও উপসর্গ মিলিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩৭ জনে। সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালেও রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৪৬ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ৮৮৬ শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৩ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ হাজার ২৯৫ জন। এ সময়ের মধ্যে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৬২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮ হাজার ২৮৩ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা, জ্বর ও র্যাশের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রেখে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকাদান কর্মসূচিকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
সূত্র: ইউএনবি










