অর্থায়ন সংকটে নতুন পরিবেশ প্রকল্প বন্ধ: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী
মানব কথা: অর্থায়ন সংকটের কারণে পরিবেশ খাতে নতুন করে কোনো সরকারি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আগের প্রকল্পগুলোর মধ্যে যেগুলোর কাজ ৫০ শতাংশের বেশি এগিয়েছে, সেগুলো চালু রাখা হচ্ছে। আর যেসব প্রকল্পের অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) উদ্যোগে আয়োজিত ‘বায়ু-শব্দ-দৃষ্টি-পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ: প্রতিকার কত দূর?’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সরকারের অর্থায়ন ও সক্ষমতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিবেশ রক্ষায় কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আগে অনেক ধরনের প্রকল্প ছিল। এখন নতুন করে কোনো প্রকল্প সরকারি টাকা দিয়ে হচ্ছে না। আগের প্রকল্পগুলোর মধ্যে যেগুলোর কাজ ৩০ শতাংশের কম ছিল, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর যেগুলোর কাজ ৫০ শতাংশের ওপরে হয়েছে, সেগুলো চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’ তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পরিবেশ খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২৫ কোটি গাছ লাগানোর প্রকল্প চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে চলতি বছর ৩ কোটি ৫ লাখের বেশি গাছ লাগানো হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব:
বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে পরিবেশ সুরক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বর্জ্য নিয়ে কেউ বাণিজ্য করলে কিংবা অনিয়ম চিহ্নিত হলে তা যথাযথভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার কোনো ধরনের দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। দূষণের উৎসগুলো চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযান এবং এর অগ্রগতি তিনি পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও জানান। প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, গাছ কাটা, পাহাড় কাটা, নদীদূষণ, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ এমনকি দৃষ্টিদূষণ নিয়েও প্রধানমন্ত্রী তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
রাত ১২টার পর বিলবোর্ড বন্ধের প্রস্তাব:
বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও দৃষ্টিদূষণ কমাতে রাত ১২টার পর বিলবোর্ড বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। এতে একদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে দৃষ্টিদূষণ কমানোর পাশাপাশি নগর পরিবেশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পলিথিনের বিকল্প নিয়ে সরকার কাজ করছে। ফলের দোকান, মুদি দোকান, গ্রোসারি ও কাঁচাবাজারে বিকল্প উপকরণ ব্যবহার করা সম্ভব। তবে মাছের বাজার বা যেখানে রক্ত ও তরল বর্জ্য তৈরি হয়, সেখানে সীমিত পরিসরে পচনশীল পলিথিন ব্যবহারের সুযোগ রাখা যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘অন্তত যেন সলিড পলিথিন থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারি।’
দূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে:
সেমিনারে এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, বায়ুদূষণের কারণে মানুষের শরীরে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর কণা প্রবেশ করছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি দৃষ্টিদূষণ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি দূষণকারীকে দায়ী করে ব্যবস্থা নেওয়ার নীতি বাস্তবায়ন এবং আন্তসীমান্ত দূষণ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের দাবি জানান। সেমিনারে পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপার সহসভাপতি এম. ফিরোজ আহমেদ ও নির্বাহী সদস্য আহসান রনি। বায়ু ও শব্দদূষণ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপার যুগ্ম সম্পাদক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার। বাপার সভাপতি ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির। এতে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং বাপার নির্বাহী সদস্য ও নগরবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব।









