রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের বিশেষ দূতের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সময়: 9:19 am - September 7, 2026 |

শহিদুল ইসলাম:

রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলনবিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া। এ সময় রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। বৈঠকে ইয়োহেই সাসাকাওয়া বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রায় ৫০ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন তিনি। পাশাপাশি মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলনবিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তাঁর দায়িত্ব ও ভূমিকার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী:

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে উল্লেখ করে সাসাকাওয়া বলেন, তিনি পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। এ সময় রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশ সফরের জন্য সাসাকাওয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের বিশেষ দূতকে নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রত্যাবাসনে সময় লাগার কথা জানালেন সাসাকাওয়া

ইয়োহেই সাসাকাওয়া জানান, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। তাঁর ধারণা, মিয়ানমার সরকার সংকটটির সমাধানে আন্তরিক। তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অগ্রগতিতে আরও সময় লাগছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। মিয়ানমারে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।জবাবে ইয়োহেই সাসাকাওয়া আশ্বস্ত করেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে তিনি নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।

ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী:

বৈঠকে বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতার জন্য বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আশ্বাস দেন সাসাকাওয়া। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান তিনি। বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর