হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
মানব কথা ডেস্ক:
দেশে হামের পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩০৫ জন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ২২১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী এবং ৮৪ জন নিশ্চিত হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ১ হাজার ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর বড় অংশই হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া রোগীদের। গত কয়েকদিন ধরেই হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে রোববারও ২৪ ঘণ্টায় চার শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৮১ হাজার ৩৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৬৪৬ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া ১ হাজার ৩০৫ জনের মধ্যে ১ হাজার ২২১ জন সন্দেহজনক এবং ৮৪ জন নিশ্চিত হাম রোগী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, গত কয়েক মাস ধরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী শনাক্তের পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। এর ফলে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৮ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে রোগী শনাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। হামের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এসব তথ্য সংগ্রহ করছে।
হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার টিকাদান কার্যক্রমও জোরদার করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে বিপুলসংখ্যক শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনতে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, হাম প্রতিরোধে সময়মতো টিকাদান এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি, সর্দি ও চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হাম ও এর উপসর্গে নতুন রোগী শনাক্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাবেও নতুন রোগী শনাক্তের পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।









