দীর্ঘমেয়াদি জনস্বার্থ বিবেচনায় বাড়ানো হয়েছে গ্যাসের দাম: জাহেদ উর রহমান
মানব কথা ডেস্ক:
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করলেও দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে, সে বিষয়ে সরকার অবগত। তবে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। জাহেদ উর রহমান বলেন, রান্নার গ্যাসসহ জ্বালানির দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ওপর কতটা চাপ পড়ে, তা সরকার বোঝে। তবে এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে দীর্ঘমেয়াদি জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সরকার চাইলে দাম নিয়ন্ত্রণে ভর্তুকি দিতে পারে। ভারতের মতো অনেক দেশও রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি দিয়ে থাকে। তবে আমদানি করা পণ্যে ভর্তুকি দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্যের তুলনায় ভিন্ন বাস্তবতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হয়। ফলে সরকার কতটা ভর্তুকি দিতে পারবে, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।
ভর্তুকির পরিমাণ তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু অর্থবছরের মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই এর অর্ধেক অর্থাৎ ২৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে এলএনজি কিনতে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৩০ ডলার ব্যয় হচ্ছে। অথচ ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ দাম সর্বোচ্চ ১৪ ডলারের মধ্যে ছিল। অর্থাৎ আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি ও সংকট মূলত বৈশ্বিক পরিস্থিতির অংশ। তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে সরকারকে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতা ক্রমাগত কমছে। জনগণের স্বার্থে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি অব্যাহত রাখলে সরকারকে ঋণের পরিমাণ বাড়াতে হবে। তাই অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করতে হচ্ছে।









