আকিজ ভেঞ্চার লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়!

সময়: 7:39 am - July 12, 2026 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: আকিজ ভেঞ্চার লিমিটেড দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী। ২০০৬ সালে আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে এটি খাদ্য, পানীয়, ডেইরিসহ বহু সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত। আকিজ ভেঞ্চার লিমিটেডের বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ শামীম উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু এ বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী যেমন দেশের আলোচিত তেমন সমালোচনাও তাদের বিরুদ্ধে কম নয়। ইতিমধ্যে আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজের বিরুদ্ধে ধামরাইয়ের গাজীখালী নদীকে ধ্বংস করে পরিবেশ দুষণসহ নানার অভিযোগের পাহাড় তৈরি হয়েছে, গত কয়েক বছরে এ কোম্পানীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুলোর কিছু কিছু অংশ তুলে ধরে রিপোর্টটি তৈরি করা। পরিবেশ দুষণ : আকিজ ভেঞ্চার লিমিটেড দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ফুড ও বেভারেজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হয়ে পরিবেশ রক্ষায় শিল্প-বর্জ্য সঠিক ভাবে ব্যবহার করছেনা। শীর্ষস্থানীয় ফুড ও বেভারেজ উৎপাদনকারী এই প্রতিষ্ঠানের বিষাক্ত বর্জ্য ধামরাইয়ের গাজীখালী নদীকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ নদীটি ধামরাইয়ের সূয়াপুর ও গাংগুটিয়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এ নদীর দুই পাড়ের মানুষের জীবন-যাপনের জন্য নদীটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ এলাকায় আকিজ ফুড ও বেভারেজ কারখানার বর্জ্যরে কারণে নদীটি দিনে দিনে বিষাক্ত হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যে কোম্পনিটির এ পরিবেশ দুষণের বিষয়ে বেশ কয়েকটি মিডিয়া রিপোর্টও প্রকাশ করেছে, কিন্তু তাতেও তারা কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।নদী দুষণ নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ এখানে আকিজের কারখানা প্রতিষ্ঠার আগে আমরা এ নদীতে গোশল করতাম ও মাছ ধরে খেতাম। এখন এ নদীতে দিনে দিনে পানি নোংরা হয়ে প্রচুর পরিমাণে দুর্গন্ধ চড়াচ্ছে। কৃষকরা এ নদী থেকে ফসলে পানিও আগের মতো দিতে পারছে না।

বর্তমান সরকারের যখন নির্বাচনী ইশতেহার খাল খনন ও নদী দূষণ রোধ করে পরিবেশ রক্ষা করার উদ্যেগ নিয়েছে ঠিক তখন আকিজের মতন একটি শীর্ষস্থানীয় ফুড ও বেভারেজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কিনা গাজীখালী নদীকে ধ্বংস করছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে একজন এলাকাবাসী বলেন, এ সরকার নাকি পরিবেশ রক্ষায় শত শত খল খনন করছে অথচ একটি জীবন্ত নদীকে ধ্বংস করে দিচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠান কিন্তু সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় যেন চোখে কাঠের চশমা পরে বসে আছে। কর্মচারীদের স্টাম্পে জোর পূর্বক অঙ্গিকার নামা নেওয়ার অভিযোগ : ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী দেশের স্বনামধন্য গ্রুপ অব কোম্পানির অন্যতম প্রতিষ্ঠান আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজ এর বিরুদ্ধে কর্মচারীদের স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক অঙ্গীকারনামা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপরোক্ত স্টাম্পে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। সে সময় দেশের অন্যতম সংগঠন ‘বাংলাদেশ বিক্রয় প্রতিনিধি জোট ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এমন ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে তখন আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজের ব্যবস্থাপকের উদ্দেশ্য কওে বলা হয়Ñ যে বা যারা কর্মকর্তা-কর্মচারীও শ্রমিকদের স্টাম্পে জোর অঙ্গিকার নামার মাধ্যমে হেনস্তা করছে এবং বিক্রয় প্রতিনিধিদের অপমান কারীদেরর বিচারও দাবি জানায় সংগঠনটি। দেশের শ্রম আইন লঙ্গন না করতে তখন ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল সংগঠনটি। ভেজাল দুধ উৎপাদন কোর্টের নিষেধাজ্ঞা : ২০১৯ সালে ঢাবি’র এক গবেষণায় আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ফার্ম ফ্রেশসহ কয়েকটি পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও সিসার উপস্থিতি পাওয়ার পর হাইকোর্ট আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ফার্ম ফ্রেশসহ ১৪টি ব্র্যান্ডের দুধ উৎপাদন ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। পরবর্তীতে অলোকিক ক্ষমতা বলে কোম্পানীর সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে তাদের পুনরায় দুধ বাজারজাতকরণের অনুমতি দেয়। যা এখনও আকিজের উৎপাদিত দুধের প্রতি মানুষ আস্থা ফিরে পায়নি। তাই সম্প্রতি স্যেসাল মিডিয়াসহ বেশ কিছু মিডিয়া আকিজের উৎপাদিত দুধের মান নিয়ে সন্দেহ পোষণ আলোচনা ও সমালোচনা করছে।

আকিজ তাকাফুলের বিরুদ্ধে আইন না মানার অভিযোগ : ২০২১ সালে আকিজ তাকাফুলের বিরুদ্ধে আইন না মানার অভিযোগ ওঠে নতুন প্রজন্মের বিমা কোম্পানি আকিজ তাকাফুল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (আইডিআরএ)। সেখানে কিছু প্রমাণও মিলেছে। তখন কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগগুলো সঠিক নয়। সেসময় বিমাকর্মী ও সমাজ সেবক দাবী করে সোহেল হাসান নামের একজন কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করার জন্য আইডিআরএ চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়েছে। এই চিঠির কপি দিয়েছে ততকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আইডিআরএ সকল সদস্য, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, দূর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্সে অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্সে ফোরাম ও আকিজ গ্রুপে।তখন কোম্পানিটির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করে কয়েকটি বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়গুলো হলো- নিয়োগপত্র ছাড়াই চিপ অপারেটিং অফিসারের চাকরি, একই সাথে আকিজ গ্রুপে চাকরির অভিযোগ, মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার শিক্ষা সনদের সত্যতা নিয়ে অভিযোগ, কোম্পানির প্রথম বছরে অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক ব্যবস্থাপনা ব্যয়সহ বিভিন্ন অভিযোগ। ব্যবসা শুরুর প্রথম বছরই আকিজ তাকাফুল লাইফ ইন্স্যুরেন্স অস্বাভাবিক ব্যয় করেছে। বিমা আইন লংঘন করে এখনো প্রতিষ্ঠানটি তখন আয়ের তুলনায় ব্যয় করেছে অনেক বেশি। সে সময় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে নাম প্রকাশে অনিচ্চুক কোম্পানির একজন পরিচালক বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি স্বীকারও করেছেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর