শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ক্ষমতার অদৃশ্য বলয়, শাহজাহান আলীকে ঘিরে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিস্তর অভিযোগ
সময়: 4:07 pm - July 12, 2026 |
মানব কথা:শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ইইডি) বদলি-পদায়ন, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিল ছাড় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহজাহান আলী। বিভিন্ন অনুসন্ধান, ঠিকাদারদের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বদলি-পদায়নে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ:- সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শাহজাহান আলী রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক বলয় গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, বদলি, পদায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তার মতামত কার্যত প্রভাব ফেলত। তার মতের বাইরে সিদ্ধান্ত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি কিংবা প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়তে হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বদলির প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পরও তা বাস্তবায়ন আটকে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।টেন্ডার ও প্রকল্প নিয়ন্ত্রণে অনিয়মের অভিযোগ:-বিভিন্ন অনুসন্ধানে অভিযোগ করা হয়েছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের পরিচালন বাজেট ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে শাহজাহান আলীর প্রভাব ছিল ব্যাপক। কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে আসবাবপত্র সরবরাহসহ একাধিক প্রকল্পে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কাজ না পাওয়া এবং প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।বিল ছাড়ে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ:- অভিযোগকারীদের দাবি, চূড়ান্ত বিল ছাড়ের আগে ঠিকাদারদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে কমিশন নেওয়া হতো। এছাড়া উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের দায়িত্ব বণ্টনেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, এসব কার্যক্রম একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, যার প্রভাব জেলা পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। সম্পদ অর্জন নিয়েও প্রশ্ন:-শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, রংপুরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট এবং নিজ এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।রাজনৈতিক পরিচয় বদলের অভিযোগ:- সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও শাহজাহান আলী নতুন ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে আগের প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও প্রশাসনিক প্রভাব অক্ষুণ্ন রেখেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আগেও হয়েছিল তদন্ত :-২০২১ সালে রংপুর অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে শাহজাহান আলীসহ কয়েকজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে টেন্ডার অনিয়ম ও সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগে তদন্ত হয়েছিল। সেসময় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রশাসন ও অর্থ শাখার পরিচালক তদন্ত পরিচালনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেন। তবে সেই তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মত:- সুশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তাই শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে অভিযোগ মিথ্যা হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তারও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত। বক্তব্য পাওয়া যায়নি:-প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহজাহান আলীর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বদলি-পদায়নে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ:- সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শাহজাহান আলী রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক বলয় গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, বদলি, পদায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তার মতামত কার্যত প্রভাব ফেলত। তার মতের বাইরে সিদ্ধান্ত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি কিংবা প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়তে হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বদলির প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পরও তা বাস্তবায়ন আটকে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।টেন্ডার ও প্রকল্প নিয়ন্ত্রণে অনিয়মের অভিযোগ:-বিভিন্ন অনুসন্ধানে অভিযোগ করা হয়েছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের পরিচালন বাজেট ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে শাহজাহান আলীর প্রভাব ছিল ব্যাপক। কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে আসবাবপত্র সরবরাহসহ একাধিক প্রকল্পে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কাজ না পাওয়া এবং প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।বিল ছাড়ে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ:- অভিযোগকারীদের দাবি, চূড়ান্ত বিল ছাড়ের আগে ঠিকাদারদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে কমিশন নেওয়া হতো। এছাড়া উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের দায়িত্ব বণ্টনেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, এসব কার্যক্রম একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, যার প্রভাব জেলা পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। সম্পদ অর্জন নিয়েও প্রশ্ন:-শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, রংপুরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট এবং নিজ এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।রাজনৈতিক পরিচয় বদলের অভিযোগ:- সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও শাহজাহান আলী নতুন ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে আগের প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও প্রশাসনিক প্রভাব অক্ষুণ্ন রেখেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আগেও হয়েছিল তদন্ত :-২০২১ সালে রংপুর অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে শাহজাহান আলীসহ কয়েকজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে টেন্ডার অনিয়ম ও সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগে তদন্ত হয়েছিল। সেসময় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রশাসন ও অর্থ শাখার পরিচালক তদন্ত পরিচালনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেন। তবে সেই তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মত:- সুশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তাই শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে অভিযোগ মিথ্যা হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তারও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত। বক্তব্য পাওয়া যায়নি:-প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহজাহান আলীর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

















