বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্ব দিলেন রাষ্ট্রপতি

সময়: 11:11 am - September 13, 2026 |

মিজানুর রহমান:

পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার দেশটির রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি এ আমন্ত্রণের জন্য পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য তাঁকেও আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত করা গেলে উভয় দেশের জনগণই লাভবান হবে। এ জন্য দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, পাকিস্তানে উৎপাদিত তৈরি পোশাক, বিশেষ করে নারীদের পোশাক, বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। পাকিস্তানি তৈরি পোশাক, কটন ইয়ার্নসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার প্রয়োজন রয়েছে। এ সময় পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তানের তৈরি বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আগামী অক্টোবরে ঢাকায় একটি বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হবে। একইভাবে বাংলাদেশের তৈরি পণ্য নিয়ে পাকিস্তানেও বাণিজ্য মেলার আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি। ফুটবলসহ বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের যৌথ উদ্যোগেরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান ইমরান হায়দার। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা ও করাচির মধ্যে এ বছর পুনরায় সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার। তিনি বলেন, সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর ফলে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দুই দেশের মধ্যে বিমান ফ্লাইটের সংখ্যা আরও বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে ব্যবসায়ী, পর্যটক, শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে। বাংলাদেশের চায়ের গুণগত মানের প্রশংসা করে পাকিস্তানের বাজারে চা রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান হাইকমিশনার। তিনি বলেন, পাকিস্তানের বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি চা রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান, বিভিন্ন কৃষিপণ্য ও ওষুধসহ নানা মানসম্মত পণ্যের পাকিস্তানের বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে। এতে নতুন বিনিয়োগ ও যৌথ ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে পাকিস্তান কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের কথাও বলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি মনে করেন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো হলে দুই দেশের দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে তা ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগও বাড়বে। সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার বাংলাদেশে তাঁর কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে রাষ্ট্রপতি তাঁকে দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও জোরদারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক হবে। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর