বেকারত্ব হ্রাসে কারিগরি-প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্ব রাষ্ট্রপতির

সময়: 10:13 am - September 21, 2026 |

শহিদুল ইসলাম:

দেশের বেকারত্ব কমাতে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন, কর্মমুখী শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের বহুমুখী দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সাক্ষাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী ও মানসম্মত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হলে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থানের সঙ্গে শিক্ষার যোগসূত্র তৈরি করা গেলে শিক্ষিত তরুণদের জন্য নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হবে এবং বেকারত্ব কমাতে তা ভূমিকা রাখবে। তিনি শিক্ষার্থীদের একাধিক ভাষা শেখার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে মাতৃভাষা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বহুভাষিক দক্ষতা শিক্ষার্থীদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারে।

দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের অগ্রগতি জানতে চাইলেন রাষ্ট্রপতি:

সাক্ষাৎকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের অগ্রগতির বিষয়েও জানতে চান রাষ্ট্রপতি। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম, বর্তমান অবস্থা এবং উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়গুলো রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করা, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষার মান ধরে রাখার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন সমাবর্তনে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার বিষয়ে আশ্বাস দেন।

কর্মমুখী শিক্ষায় জোর:

সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার বিষয়ে রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন বক্তব্যেও কারিগরি, প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব উঠে এসেছে। এর আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি কর্মসংস্থানমুখী কারিকুলাম প্রণয়ন এবং স্বল্পমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সহযোগী স্বাস্থ্যসেবা ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছয় মাস ও এক বছর মেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স চালুর কথাও তিনি বলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার সামঞ্জস্য তৈরি করা গেলে শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলে দেশীয় শ্রমবাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্র দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে শুধু প্রথাগত একাডেমিক শিক্ষার ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর গুরুত্ব:

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে দেশের জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। কর্মমুখী শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়ানো হলে তরুণদের একটি বড় অংশকে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠ্যক্রমকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পাশাপাশি শিল্প, ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন উপাচার্য। সাক্ষাৎকালে সংশ্লিষ্ট সচিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও কোষাধ্যক্ষসহ বঙ্গভবন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর