ঘরোয়া ম্যাচ ফি বাড়াল বিসিবি, তিন ফরম্যাটে ছয় দলের টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা
মোঃসাব্বির আহমেদ:
দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একই সঙ্গে প্রথম শ্রেণি, লিস্ট ‘এ’ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—তিন ফরম্যাটকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে ছয় দলের একটি ঘরোয়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। নতুন কাঠামোর প্রথম আয়োজন হিসেবে আগামী ডিসেম্বর মাসে টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা আয়োজনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার অনুষ্ঠিত বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের ভার্চুয়াল সভায় ওয়ার্কিং কমিটির প্রস্তাবের ভিত্তিতে এসব সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। সংশোধিত ম্যাচ ফি পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগের ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য কার্যকর হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দৈনিক ভাতাও দ্বিগুণ করার অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড।
পুরুষ ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি কত:
সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী, পুরুষ ক্রিকেটাররা চার দিনের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রতি ম্যাচে পাবেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। লিস্ট ‘এ’ ওয়ানডে ক্রিকেটে ম্যাচপ্রতি ১ লাখ টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা ম্যাচ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় একাদশ বা সেকেন্ড ইলেভেনের ম্যাচ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। এর ফলে ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন স্তরে নিয়মিত অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের ম্যাচভিত্তিক আয় আগের তুলনায় বাড়বে। বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ঘরোয়া ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে এসেছে।
নারী ক্রিকেটারদেরও বাড়ছে ম্যাচ ফি:
শুধু পুরুষ ক্রিকেটারদের নয়, নারী ক্রিকেটারদের ঘরোয়া ম্যাচ ফিও সংশোধন করেছে বিসিবি। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, নারী ক্রিকেটাররা তিন দিনের ম্যাচে প্রতি ম্যাচে ৪০ হাজার টাকা, ওয়ানডেতে ৩০ হাজার টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ২০ হাজার টাকা ম্যাচ ফি পাবেন। এর মাধ্যমে নারী ক্রিকেটের ঘরোয়া প্রতিযোগিতাতেও ম্যাচভিত্তিক পারিশ্রমিকের কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করা হলো।
দ্বিগুণ হলো অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দৈনিক ভাতা:
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড়দের দৈনিক ভাতাও বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে বিসিবি। এতদিন তারা দৈনিক ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পেতেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ তরুণ ক্রিকেটারদের দৈনিক ভাতা দ্বিগুণ করা হয়েছে।
তিন ফরম্যাটে এক কাঠামোর ছয় দল:
ম্যাচ ফি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামোতেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। বোর্ডের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির চার দিনের ক্রিকেট, লিস্ট ‘এ’ ওয়ানডে এবং লিস্ট ‘এ’ টি-টোয়েন্টিকে একটি একক প্রতিযোগিতা কাঠামোর আওতায় আনা হবে। এই কাঠামোয় থাকবে ছয়টি দল। প্রস্তাবিত কাঠামোয় তিন ফরম্যাটের জন্য আলাদা আলাদা ম্যাচ বা আসর অনুষ্ঠিত হলেও সেগুলো একই প্রতিযোগিতা কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে। এর ফলে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে দল ও প্রতিযোগিতা ব্যবস্থাপনায় নতুন ধরনের কাঠামো তৈরি হবে।
দলের মালিকানায় করপোরেট প্রতিষ্ঠান:
নতুন ছয় দলের মালিকানা স্বত্ব প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত ও স্বনামধন্য করপোরেট এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এ জন্য প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য দলগুলোর মালিকানা স্বত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বিসিবি। অর্থাৎ নতুন কাঠামোয় ঘরোয়া ক্রিকেটে করপোরেট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। বিসিবির প্রস্তাবিত পুনর্গঠনের অন্যতম লক্ষ্যও হলো ঘরোয়া ক্রিকেটের সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানো।
ডিসেম্বরেই শুরু হতে পারে টি-টোয়েন্টি:
নতুন কাঠামোর অধীনে প্রথমে টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে বিসিবি। এ জন্য ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে একই কাঠামোর আওতায় লিস্ট ‘এ’ ওয়ানডে ও প্রথম শ্রেণির চার দিনের ক্রিকেট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিসিবির ভাষ্য অনুযায়ী, তিন ফরম্যাটকে একটি সমন্বিত ঘরোয়া প্রতিযোগিতা কাঠামোর আওতায় আনাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে করপোরেট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে প্রতিযোগিতার কাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ:
বিসিবির সাম্প্রতিক বোর্ড সভায় ম্যাচ ফি ও প্রতিযোগিতা কাঠামোর পাশাপাশি দেশের ক্রিকেট অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নতুন দুটি ড্রেসিংরুম নির্মাণ এবং বিদ্যমান কিছু সুবিধা উন্নয়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি মাঠে আন্তর্জাতিক মানের তিন লেনের অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক স্থাপনের বিষয়েও অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড। এ ছাড়া বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের সংস্কার ও উন্নয়নকাজের জন্য পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি বৃদ্ধি এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতিযোগিতা কাঠামো পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তকে দেশের ক্রিকেটের ঘরোয়া পর্যায়ে বিসিবির সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলোর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন ছয় দলের কাঠামো বাস্তবায়িত হলে ঘরোয়া ক্রিকেটে করপোরেট মালিকানা, তিন ফরম্যাটের সমন্বিত প্রতিযোগিতা এবং সংশোধিত ম্যাচ ফি—এই তিনটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে। তবে প্রস্তাবিত কাঠামোর বিস্তারিত দল গঠন, মালিকানা প্রক্রিয়া ও প্রতিযোগিতার পূর্ণাঙ্গ সূচি পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করবে বিসিবি।









