পাইকারি থেকে খুচরা—সব পর্যায়েই বিদ্যুতের নতুন মূল্য ঘোষণা
মানব কথা:বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও গ্রাহক পর্যায়ের মূল্য বৃদ্ধি করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, উৎপাদন ব্যয়, আমদানি খরচ, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয়, সরকারি ভর্তুকি এবং সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কোন পর্যায়ে কত দাম বাড়ল?
নতুন ঘোষণায়—
- পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে বেড়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা হয়েছে। অর্থাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বা প্রায় ১৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
- সঞ্চালন চার্জ ইউনিটপ্রতি প্রায় ৩১ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রায় ২৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি।
- গ্রাহক পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা হয়েছে, যা ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি।
ভর্তুকির চাপ কমছে না
সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি জানায়, নতুন মূল্যহার কার্যকর হলেও বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি কমছে না। চলতি অর্থবছরেও বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।
কেন বাড়ানো হলো দাম?
বিইআরসি বলছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কারণে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ভারসাম্য রক্ষায় নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে শিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সরকার বলছে, ভর্তুকির বোঝা কমানো এবং বিদ্যুৎ খাতের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেই এ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।









