আলোর দিশারী যখন নেপথ্যে: বামনা বিএনপির প্রাণপুরুষ জাহাঙ্গীর হোসেনের নীরবতা ও কিছু প্রশ্ন
বিশেষ প্রতিবেদক :বামনা, বরগুনা: রাজনীতিতে ‘সুদিন’ এবং ‘দুর্দিন’—দুটি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। কিন্তু দুর্দিনের পরীক্ষিত কাণ্ডারিরা যখন সুদিনে এসে নিজেদের গুটিয়ে নেন বা নীরব ভূমিকা পালন করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই দলের ভেতরে-বাইরে এক হতাশা ও প্রশ্নের জন্ম নেয়। বরগুনা জেলার বামনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো: জাহাঙ্গীর হোসেনের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ঠিক তেমনই এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে স্থানীয় রাজনীতিতে। বামনার সাধারণ মানুষের কাছে যিনি ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে ‘দুর্দিনের আশার আলো’ হিসেবে পরিচিত, আজ দলের অনুকূল সময়ে তার এই নিষ্ক্রিয়তা বা নীরব ভূমিকা তৃণমূলকে ভাবিয়ে তুলছে।
দুর্দিনের সেই সাহসী অভিভাবক বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসন আমলে যখন দেশজুড়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মামলা, হামলা আর চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছিলেন, তখন বামনা উপজেলায় কর্মীদের আগলে রাখার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন মো: জাহাঙ্গীর হোসেন। ক্ষমতার দাপট আর প্রশাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিনি যেভাবে নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তা সমসাময়িক রাজনীতিতে বিরল।শুধু মৌখিক সান্ত্বনা নয়, নিজের অর্জিত অর্থ দিয়ে নির্যাতিত কর্মীদের আইনি লড়াই, মামলার জামিন প্রাপ্তি এবং আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করেছেন তিনি। হামলা-মামলায় বিপর্যস্ত অনেক কর্মীর সংসার চলেছে তার গোপনে পাঠানো সাহায্যে। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষও যেকোনো বিপদে-আপদে তাকে পাশে পেয়েছে। ফলস্বরূপ, তিনি হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষের ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ আর কর্মীদের কাছে এক ‘সাহসী ও কর্মীবান্ধব নেতা’। সুদিনে কেন এই নীরবতা? দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ যখন দলের সুদিন এসেছে, যখন তৃণমূলের কর্মীরা তাদের এই ত্যাগী নেতাকে সামনের সারিতে দেখতে উন্মুখ, ঠিক তখনই জাহাঙ্গীর হোসেনের এই নীরব ভূমিকা বা নেপথ্যে চলে যাওয়া সবাইকে এক বড় প্রশ্নবোধক চিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ‘কেন তিনি নিষ্ক্রিয়?’—এই প্রশ্ন এখন বামনার বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে।রাজনীতিতে এই ধরনের নীরবতার পেছনে সাধারণত কয়েকটি কারণ থাকতে পারে: তৃণমূলের মূল্যায়ন নিয়ে মান-অভিমান: অনেক সময় দেখা যায়, দুর্দিনে যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করেন, সুদিনে এসে সুযোগসন্ধানী বা সুবিধাবাদীদের ভিড়ে তারা কিছুটা অবমূল্যায়নের শিকার হন। জাহাঙ্গীর হোসেনের মতো একজন আত্মমর্যাদাশীল নেতা হয়তো কোনো ধরনের নোংরা কাদা-ছোড়াছুড়ি বা লবিংয়ের রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে রাখতেই এই পথ বেছে নিয়েছেন। প্রচারবিমুখতা ও গোপন সহযোগিতা: তিনি যে একদমই বিচ্ছিন্ন, তা কিন্তু নয়। জানা গেছে, এখনো তিনি গোপনে অসহায় মানুষ ও কর্মীদের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। অর্থাৎ, তিনি পদ-পদবি বা সস্তা প্রচারণার চেয়ে নীরবে কাজ করাটাকেই শ্রেয় মনে করছেন।
ক্লান্তি ও আত্মসমীক্ষা: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ধকল ও ত্যাগের পর একজন নেতার কিছুটা বিশ্রামের বা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ (Wait and Watch) করার প্রয়োজন হতে পারে।তৃণমূলের হতাশা ও আগামীর বার্তা জাহাঙ্গীর হোসেনের মতো একজন সাহসী নেতার নিষ্ক্রিয়তায় বামনা বিএনপির ত্যাগী কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের শূন্যতা ও হতাশা বিরাজ করছে। কর্মীরা মনে করেন, দলের এই সুসময়ে যদি দুর্দিনের কাণ্ডারিরা হাল না ধরেন, তবে মাঠপর্যায়ের ত্যাগী কর্মীরা অভিভাবকহীন হয়ে পড়তে পারেন। রাজনীতিতে মেধা, অর্থ ও সাহসের মেলবন্ধন ঘটাতে পারেন এমন নেতার সংখ্যা খুবই কম। মো: জাহাঙ্গীর হোসেন সেই স্বল্পসংখ্যক নেতাদেরই একজন। বামনা উপজেলার বিএনপিকে আরও শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত করতে হলে তার মতো কর্মীবান্ধব ও জনপ্রিয় নেতার সক্রিয় উপস্থিতি এখন সময়ের দাবি।
তৃণমূলের প্রত্যাশা—অভিমান বা কৌশলগত নীরবতা ভেঙে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ জাহাঙ্গীর হোসেন আবারও চেনা রূপে, চেনা মাঠে ফিরবেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং স্থানীয় নীতিনির্ধারকরাও এই ত্যাগী নেতার মান-অভিমান বা নিষ্ক্রিয়তার কারণ খতিয়ে দেখে তাকে যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে মাঠে ফেরানোর উদ্যোগ নেবেন, এটাই বামনাবাসীর প্রত্যাশা।









