‘দুর্নীতির বরপুত্র’ শাহজাহান আলী, ওএসডির ১৮ দিনের মাথায় কোন অদৃশ্য ক্ষমতায় ফের স্বপদে?

সময়: 9:58 am - August 16, 2026 |

মানব কথা: শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. শাহজাহান আলীকে ঘিরে অনিয়ম-দুর্নীতির নানা অভিযোগের মধ্যেই তাকে ওএসডি করার মাত্র ১৮ দিনের মাথায় আবারও স্বপদে বহাল করা হয়েছে। ২৩ জুলাই তাকে ওএসডি করা হলেও বুধবার (১২ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-৩ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে পুনরায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে বহাল করা হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে ওএসডি থেকে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনার ঘটনায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কী কারণে তাকে ওএসডি করা হয়েছিল এবং মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে কোন বিবেচনায় সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলো—এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।

ওএসডির পরও ১৮ দিনেই ফিরে আসা:

গত ২৩ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উন্নয়ন-৩ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে শাহজাহান আলীকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। একই আদেশে চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আলী ইমামকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে বদলি করে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই আদেশে ‘জনস্বার্থে’ তা অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়।কিন্তু ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার ১৮ দিনের মাথায় শাহজাহান আলীকে আবারও একই পদে ফিরিয়ে আনা হলো। ১২ আগস্টের নতুন প্রজ্ঞাপনে এ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

আগে থেকেই নানা অভিযোগ:

শাহজাহান আলীকে নিয়ে এর আগেও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বদলি-পদায়ন, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিল ছাড় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় তার প্রভাব ছিল। নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়া, বিল ছাড়ে কমিশন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি-পদায়নেও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে অবশ্য কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

তদন্ত চলার মধ্যেই পুনর্বহাল?

সাম্প্রতিক আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাওর অঞ্চলে ৪৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫টি বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন শাহজাহান আলী। নির্মাণাধীন কয়েকটি ভবনে ফাটল, জানালার লিন্টেল বাঁকা হওয়া ও ছাদে ত্রুটির অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকার মধ্যেই তাকে পুনরায় স্বপদে ফিরিয়ে আনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‘অদৃশ্য ক্ষমতা’র প্রশ্ন

শাহজাহান আলীর পুনর্বহালের পর ইইডির সংশ্লিষ্ট মহলে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি উঠছে তা হলো—মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে কী এমন পরিবর্তন হলো যে একজন ওএসডি কর্মকর্তাকে আবারও একই গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনা হলো? কোনো প্রশাসনিক ব্যাখ্যা ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, যদি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তি না থাকে, তাহলে তা স্পষ্ট করা উচিত। আর অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান থাকলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফেরানোর যৌক্তিকতাও পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি:

শাহজাহান আলীকে পুনর্বহালের কারণ এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর