সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজার কারসাজির মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন ১৭ নভেম্বর

সময়: 1:18 pm - September 23, 2026 |

জিয়াউল হক টুটুল:

শেয়ারবাজারে কারসাজি, প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত নতুন করে ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। মামলাটি শেয়ারবাজারে কথিত কারসাজি, প্রতারণামূলক লেনদেন ও অর্থপাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে। তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগ এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন এবং পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর আইনগত ভিত্তি নির্ধারিত হবে। মামলায় সাকিব আল হাসান ছাড়াও আসামি করা হয়েছে সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের (হিরু), তাঁর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভীর নিজামকে।  দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ১২০(বি) ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেনিফিশিয়ারি ওনার্স বা বিও অ্যাকাউন্টে অবৈধভাবে ধারাবাহিক লেনদেন, প্রতারণামূলক সক্রিয় ট্রেডিং, গ্যাম্বলিং ও স্পেকুলেশনের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে কারসাজি করেন। দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রতারিত হয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হারান। মামলার এজাহারে এভাবে মোট ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে, যাকে ‘অপরাধলব্ধ অর্থ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।  তদন্তকারী সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, শেয়ারদরের কৃত্রিম উত্থানের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা এবং পরবর্তী সময়ে লেনদেনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।

মামলার অভিযোগে আবুল খায়ের হিরুর বিরুদ্ধে অর্থের উৎস গোপন করে তা বিভিন্ন খাতে স্থানান্তরের অভিযোগও আনা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, তাঁর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সহায়তায় ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকা-এর উৎস গোপন করে বিভিন্ন খাতে স্থানান্তর করা হয়। এ ছাড়া আবুল খায়ের হিরুর নামে পরিচালিত ১৭টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।  তবে ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যাওয়াই অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমান নয়। তদন্তে এসব লেনদেনের প্রকৃতি, উৎস ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো যাচাই করার কথা রয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আবুল খায়ের হিরুর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে কারসাজি করা হয়েছে বলে যে তিনটি কোম্পানির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো—প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও সোনালী পেপারস লিমিটেড। দুদকের মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কোম্পানির শেয়ারে সাকিব আল হাসান বিনিয়োগ করেন। এতে তিনি কথিত মার্কেট ম্যানিপুলেশনে সহায়তা করেন এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থ থেকে ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা ‘রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইন’-এর নামে শেয়ারবাজার থেকে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ অভিযোগের বিষয়ে এখনো আদালতে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তদন্ত শেষে দুদকের প্রতিবেদনে অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তা জানা যাবে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে এর আগে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল দুদক। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সাকিব আল হাসানসহ মামলার ১৫ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সাকিবকে ২৬ নভেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়।  মামলার তদন্তে শেয়ারবাজারে লেনদেনের ধরন, সংশ্লিষ্ট বিও হিসাব, ব্যাংক লেনদেন এবং অর্থের উৎসসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে দুদকের আগের বক্তব্যে জানা যায়।

বুধবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালতে দিন ধার্য থাকলেও দুদক প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। ফলে আদালত নতুন করে ১৭ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন। এখন নির্ধারিত তারিখে দুদক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে কি না, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিবেদন দাখিলের পর আদালত মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের বিষয়ে আদেশ দেবেন। মামলাটির অভিযোগ, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান। ফলে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে নিশ্চিত হিসেবে বিবেচিত হবে না।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর