আওয়ামী লীগের সহযোগী থেকে পরিচালকের চেয়ার: “ফায়ার সার্ভিসে প্রকল্প খেকো অতাহার হোসেনের ভেলকি” পর্ব ১
শহিদুল ইসলাম : ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা মো. শহীদ আতাহার হোসেনের চেয়ার যেন এক অলৌকিক ক্ষমতায় অটুট রয়েছে। বহুল বিতর্কিত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহেদ কামালের বিদায় ঘটলেও অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) পদে শহীদ আতাহার হোসেন দিব্যি নিজের আসন আঁকড়ে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি অদৃশ্য ও প্রভাবশালী শক্তির ছায়ায় তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে একটি চক্র।
বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে বিশেষ সুবিধা ভোগ করেছেন আতাহার। সেই সুবাদে অতীতে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন নতুন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রকল্পগুলোতে সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে পাহাড়সম অনিয়মের জন্ম দেন তিনি। পরবর্তীতে সেই দুর্নীতির বোঝা মাথায় নিয়ে আরও প্রভাবশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন এই কর্মকর্তা।
বিসিএস পশুসম্পদ ক্যাডারের উপসচিব হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ফায়ার সার্ভিসের মতো অতি সংবেদনশীল দপ্তরের পরিচালক পদে বহাল রয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি, ফায়ার সার্ভিসের ১৯৭টি পদের নিয়োগে প্রশ্নফাঁস এবং মাত্র কয়েক ঘণ্টায় প্রায় ১৮২ জন প্রার্থীর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে ফল প্রকাশের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা তার আমলেই ঘটেছে। এছাড়া ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ড্রাইভার সিহাব উদ্দিনের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র, ই-ফায়ার লাইসেন্সের ফি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নেওয়া এবং বহিষ্কৃত ফায়ারফাইটার আব্দুল হান্নানকে দিয়ে প্রতিবাদী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি করানোর মতো গুরুতর সব অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
প্রশাসন বদলায়, সরকার বদলায়, কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের দুর্নীতির বরপুত্র শহীদ আতাহার হোসেনের চেয়ারের কোনো নড়চড় হয় না—এই চরম বাস্তবতাই এখন অধিদপ্তরে আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু। এসব গুরুতর অনিয়মের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে অবিলম্বে তাকে স্পর্শকাতর এই পদ থেকে অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল দুর্নীতির ফরেনসিক অডিট দাবি করেছেন সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা।
শহীদ আতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগের বিষয় বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠো ফোনে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হলে দ্বিতীয় পর্ব যুক্ত করা হবে।

















