গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে ৭ দফা এক দফায় রূপ নেবে: শফিকুর রহমান

সময়: 1:52 pm - October 31, 2026 |
মানব কথা ডেস্ক:

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হলে ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি এক দফায় রূপ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অস্ত্রের দৌরাত্ম্যের অবসান ঘটাতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন জরুরি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে খুলনার ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাস ও অস্ত্রের ঝনঝনানির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছি। এসবের কবর রচনা করতে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে।” তাঁর দাবি, গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে দুর্নীতি ও অনিয়মের সুযোগ কমবে, দেশ এগিয়ে যাবে এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে জলাবদ্ধতা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সংসদেও এ বিষয়ে জোরালো বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, জনগণের সম্পদ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। লংমার্চে মানুষের অংশগ্রহণ ও সমর্থনের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, আগের ও বর্তমান লংমার্চে হাজারো মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন তাঁরা। মানুষ উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে দাবি আদায়ের আন্দোলনে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। দাবি আদায়ে জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাত দফা বাস্তবায়ন তাঁদের দলীয় বিজয় নয়, বরং জনগণের বিজয়। তবে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সাত দফা এক দফায় পরিণত হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পথসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। এ বিষয়ে টালবাহানা বা ধান্দাবাজি করার চেষ্টা না করতেও সরকারকে সতর্ক করেন তিনি। মামুনুল হক অভিযোগ করেন, সরকার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের দুষ্টচক্রের কাছে জনগণকে বন্দী করার চেষ্টা করছে। দেশের মানুষের মতামত উপেক্ষা করে ভিনদেশি স্বার্থ রক্ষার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ ছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়। ফুলতলার পথসভা শেষে লংমার্চের বহর যশোরের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে যশোরের মুড়লীর মোড় ও ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভায় অংশ নেওয়ার পর কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। লংমার্চের পথের বিভিন্ন স্থানে গণজমায়েতে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য দেন। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীরা লংমার্চের বহরকে অভিবাদন জানান। উল্লেখ্য, দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় লংমার্চ করে ১১ দলীয় ঐক্য।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর