এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ: শিক্ষামন্ত্রী
মানব কথা ডেস্ক:
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষার্থীদের একটি বছর নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। শনিবার সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা যাতে একটি বছর হারিয়ে না ফেলে এবং দ্রুত শিক্ষার মূল ধারায় ফিরতে পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে তাদের সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়া হবে। তিনি জানান, সম্পূরক পরীক্ষায়ও যারা উত্তীর্ণ হতে পারবে না কিংবা যারা পরীক্ষায় অংশ নেবে না, তাদের শিক্ষার বাইরে রাখা হবে না। বরং তাদের কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার আওতায় এনে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ প্রকল্প ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফলাফল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মূল্যায়নে যাতে কোনো ধরনের ত্রুটি বা অস্বচ্ছতা না থাকে, সে জন্য এবার প্রতিটি পরীক্ষককে তুলনামূলক কমসংখ্যক উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অতীতে খাতা পুনর্মূল্যায়নের পর হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব দুর্বলতা ও অনিয়মের কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ কিছুটা কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এর পেছনে কোনো একটি বিষয়ের ঘাটতি দায়ী নয়। বরং সামগ্রিক শিখন পদ্ধতি, পাঠ্যবই ও শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের যে ঘাটতি রয়েছে, তা পুনর্মূল্যায়ন করে দূর করতে হবে। অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবসহ বিভিন্ন উপায়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নে কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শিক্ষকদের দুর্বলতা ও অনিয়মের কারণে অতীতে বড় ধরনের ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি একসময় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাও ঘটেছিল। বর্তমান সরকার কঠোর হাতে এসব দমন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে তুলনামূলক খারাপ ফলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ দুই বিষয়ে ফলের অবনতি ঠেকাতে ইতোমধ্যে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। যেসব কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম অথবা পাসের হার শূন্য, সেগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভালো ফল করা পাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এ প্রক্রিয়ায় কোনো শিক্ষকের চাকরি যাতে না যায়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু বড় শহর নয়, গ্রামের শিক্ষকদেরও নিয়মিত ক্লাস নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য পরীক্ষার কেন্দ্রের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষেও সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








