অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে লাগবে ৪-৫ বছর: অর্থমন্ত্রী

সময়: 9:55 am - June 13, 2026 |

মানব কথা: দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি কঠিন রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে আরও চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে। তবে আগামী দুই বছর কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া হবে, এরপর ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট সবার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে:

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১১ বছর পর বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ সময়ে নিত্যপণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই বেতন সমন্বয় প্রয়োজন ছিল।তিনি বলেন, “বেতন বাড়লে দুর্নীতির প্রবণতা কমার কথা। অভাব থাকলে অনেক সময় দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। আয় বাড়লে সেই প্রবণতাও কমবে বলে আমরা আশা করি।”

কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব:

অর্থমন্ত্রী জানান, বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অন্যতম অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে কারিগরি শিক্ষা, ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন (স্কিল ডেভেলপমেন্ট) কর্মসূচিতে বড় বিনিয়োগ করা হবে। তার ভাষায়, দক্ষ শ্রমিকের জন্য দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক বেশি, তাই দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর সরকার জোর দিচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন সঠিক নীতি:

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি পুলিশ, র‍্যাব বা প্রশাসনিক কঠোরতা দিয়ে নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়। বরং কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মূল্যস্ফীতির চাপ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ব্যাংক খাতের সংকটে মূল্যস্ফীতির চাপ:

অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে ব্যাংক খাতে লুটপাট ও অর্থপাচারের কারণে বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর অর্থের খরচ বেড়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব মূল্যস্ফীতিতেও পড়ছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে আমদানিনির্ভর পণ্যের দামও বাড়ে। তবে দেশের অভ্যন্তরে ব্যবসার ব্যয় কমানো গেলে মূল্যস্ফীতির চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের তাগিদ:

অর্থমন্ত্রী বলেন, ইজ অব ডুইং বিজনেস সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান সন্তোষজনক নয়। একটি ব্যবসা শুরু করতে বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগে, যাবিনিয়োগের জন্য বড় বাধা। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় জটিলতা, সময়ক্ষেপণ এবং অনিয়ম কমাতে পারলে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

স্পট মার্কেটের বদলে বাফার স্টক:

খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার স্পট মার্কেট নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এগোচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে অন্তত তিন মাসের খাদ্য ও জ্বালানির বাফার স্টক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরসহ বিভিন্ন বন্দরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অতিরিক্ত ব্যয় কমিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, তথ্য, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এনবিআর চেয়ারম্যান, অর্থ সচিব এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর