হামের উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু
মোঃসাব্বির আহমেদ:
দেশে হামের সংক্রমণ ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১১৩ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে আরও ১ হাজার ১৫৭ জনের শরীরে। অর্থাৎ এক দিনে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক মিলিয়ে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৭০ জন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৭৬ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৭৫ জনের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১১ শিশুর মধ্যে ঢাকা বিভাগের ছয়জন, চট্টগ্রাম বিভাগের দুজন এবং সিলেট, খুলনা ও রংপুর বিভাগের একজন করে রয়েছে। তবে একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এর আগে গত কয়েক দিনে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ওঠানামা করেছে। ২১ সেপ্টেম্বর ২৪ ঘণ্টায় ছয় শিশুর মৃত্যু এবং ২২ সেপ্টেম্বর আরও দুই শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
নিশ্চিত হাম শনাক্ত ২০ হাজার ছাড়িয়েছে:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ধারাবাহিক হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১৩ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এতে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২০ হাজার ৮৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৫৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে সন্দেহভাজন হামের সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে নিশ্চিত হাম এবং হামের উপসর্গযুক্ত রোগীর তথ্য আলাদাভাবে উপস্থাপন করা হয়। ফলে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সব ঘটনাকে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হিসেবে গণনা করা হচ্ছে না। নিশ্চিত হামে মৃত্যু ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর পরিসংখ্যান পৃথকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে।
হাসপাতালে ভর্তি ১ লাখ ৬২ হাজারের বেশি:
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বড় আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের সন্দেহে ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬১২ জন। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরলেও হাসপাতালগুলোতে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তি অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক দিনের পরিসংখ্যানেও আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজারের ওপরে রয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে এক দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৩৪৯ শিশুর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছিল। এর আগের দিনও ১ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়।
ছয় মাসে মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়াল:
গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নিয়মিত প্রতিবেদনে প্রতিদিনের নতুন রোগী, নিশ্চিত হাম, হামের উপসর্গ, হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাসের ব্যবধানে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মোট ১ হাজার ৭৬ জনের মৃত্যুর মধ্যে ৯৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে এবং নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ১০১ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান এমন সময়ে প্রকাশ হলো, যখন প্রতিদিনই নতুন করে বিপুলসংখ্যক শিশু হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এক দিনে ১১ শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও পরিস্থিতির গুরুতর দিকটি সামনে এনেছে।
নিয়মিত নজরদারি করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর:
হাম পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সরকারি Measles Outbreak Monitoring Platform-এ প্রতিদিনের পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাবে নতুন করে ১ হাজার ২৭০ জনের মধ্যে হাম বা হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একই সময়ে ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৭৬ জনে পৌঁছেছে। পাশাপাশি নিশ্চিত হাম ও সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যাও ক্রমাগত বাড়ছে।









