প্রধানমন্ত্রীর সরেজমিন তদারকি, তবু রাজধানীতে রয়ে গেছে কোরবানির বর্জ্য
মানব কথা:পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে কোরবানির পশুবর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এমন সরাসরি তদারকিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন নগরবাসী। তবে সরকারি ঘোষণা ও বাস্তব চিত্রের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—পশুবর্জ্য অপসারণে কতটা সফল হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, কোরবানির পশুবর্জ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের কথা থাকলেও শুক্রবার (২৯ মে) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্যের স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল পশুর উচ্ছিষ্টাংশ, আবার কোথাও জমে ছিল রক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য।
ডিএসসিসি ৮ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও বাস্তবে দক্ষিণ সিটির একাধিক ওয়ার্ডে কোরবানির বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। অথচ বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম দাবি করেন, ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭১টি ওয়ার্ড শতভাগ বর্জ্যমুক্ত করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে দক্ষিণ সিটির ১৪, ২২, ২৭, ৩৫ ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে বর্জ্য দেখা গেছে। ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা রাসেল রহমান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ৬৪১ টন বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে ডাম্পিং করা হয়েছে। অন্যদিকে ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার ১ হাজার ৮৮২টি ট্রিপে ৮ হাজার ৭৬ টন এবং শুক্রবার রাত ৮টা পর্যন্ত ১ হাজার ৪৪৬টি ট্রিপে ৫ হাজার ৯১৩ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বর্জ্য অপসারণে গাফিলতির অভিযোগে তাৎক্ষণিকভাবে দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন প্রধানমন্ত্রী। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে মো. সাদেকুর রহমান ও কাজী সালেহ মুস্তানজিরকে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সিটি করপোরেশনের প্রস্তুতি ও বাস্তব কার্যক্রমের মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য ছিল। প্রধানমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়াকে তারা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় পশুবর্জ্য পড়ে থাকলে দুর্গন্ধ, ব্যাকটেরিয়া ও রোগজীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে বৃষ্টির পানির সঙ্গে এসব বর্জ্য মিশে পরিবেশ দূষণ এবং ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।








