‘দীপেন দেওয়ান স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি, মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে’
মানব কথা: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমা দাবি করেছেন, অসুস্থতার কারণে নয়, বরং রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ দাবি করেন। সর্বমিত্র চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থার ফলেই দলটি তিনটি সংসদীয় আসনে বিজয় অর্জন করে। তিনি দাবি করেন, রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় সম্প্রদায়ের কাছে একজন গ্রহণযোগ্য ও সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি আরও বলেন, ‘অসুস্থতার কারণ দেখানো হলেও দীপেন দেওয়ান স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সুপারিশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের কারণে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’ সর্বমিত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধের কারণে এত দ্রুত মন্ত্রিত্ব হারানোর ঘটনা বিরল এবং এতে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ
এদিকে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার এবং তাকে পুনর্বহালের দাবিতে সোমবার বিকেলে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শহরের কাঁঠালতলী এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বক্তারা দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তার পুনর্বহাল দাবি জানান।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবন
৬৩ বছর বয়সী দীপেন দেওয়ান ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে সপ্তম বিসিএসের মাধ্যমে বিচার বিভাগে যোগ দিয়ে দীর্ঘদিন জুডিসিয়াল সার্ভিসে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি প্রায় দুই দশকের বিচারিক চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসেন। সে সময় তিনি যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।









