দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে চীনের আইনসভা থেকে ৬ জেনারেল বরখাস্ত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান আরও জোরালো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশটির শীর্ষ আইনসভা ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (এনপিসি) থেকে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ছয়জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনসভার মোট ১৩ জন সদস্যকে অপসারণ করা হয়েছে এবং একজন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার রাতে এনপিসির স্থায়ী কমিটির প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। অপসারিতদের মধ্যে সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি একজন সাবেক শীর্ষ আর্থিক নিয়ন্ত্রক এবং শিনজিয়াংয়ের সাবেক কমিউনিস্ট পার্টি প্রধানও রয়েছেন। বরখাস্ত হওয়া সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ইকুইপমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের জেনারেল জু জুয়েকিয়াং, ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াং কাংপিং, তিব্বত মিলিটারি কমান্ডের পলিটিক্যাল কমিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়িন হংক্সিং, ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের পলিটিক্যাল কমিসার জেনারেল লি ফেংবিয়াও, বিমান বাহিনীর পলিটিক্যাল কমিসার জেনারেল গুও পুক্সিয়াও এবং সাইবার স্পেস ফোর্সের লেফটেন্যান্ট জেনারেল ঝাং মিংহুয়া।
তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই দুর্নীতির তদন্ত চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কেউ গুরুত্বপূর্ণ পার্টি বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন, আবার কেউ পদোন্নতির তালিকা থেকে বাদ পড়েছিলেন। শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর থেকে চীনের সামরিক বাহিনীতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করছেন। এই অভিযানে ইতোমধ্যে পলিটব্যুরোর সদস্যসহ ১০ জনের বেশি সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা পদ হারিয়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, আবার কেউ কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই জনসমক্ষে অনুপস্থিত রয়েছেন।২০২২ সালের পার্টি কংগ্রেসে ঘোষিত সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের সাত সদস্যের মধ্যে বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র দু’জন—প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং পিএলএর দুর্নীতিবিরোধী প্রধান ঝাং শেংমিন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পুনর্ব্যক্ত করে গত মার্চে শি জিনপিং বলেছিলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী বন্দুক পরিচালনা করে। যারা পার্টির প্রতি অর্ধেক অনুগত, তাদের জন্য সামরিক বাহিনীতে কোনো স্থান নেই এবং দুর্নীতিবাজদের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই।’ আইনসভা থেকে অপসারিত বেসামরিক সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন শিনজিয়াংয়ের সাবেক পার্টি প্রধান মা জিংরুই, গুয়াংজুর সাবেক পার্টি সেক্রেটারি গুও ইয়ংহাং এবং ন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রেগুলেটরি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাবেক পরিচালক লি ইউনজে। তাদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক তদন্ত চলছে।









