দূর্ণীতির বরপূত্র মাসুদরানা,হরিলুট করেও সব আমলেই থাকছেন ধরা ছোয়ার বাহিরে!
মানব কথা:৫মার্চ ২০২৬, রাজধানীর অন্যতম অভিজাত সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসিক এলাকা ইস্কাটন গার্ডেন, আমাদের প্রতিবেদক যখন সরেজমিনে ঘুরছেন তখন এঁর জীর্ণদশা দেখে বিস্মিত হতে হয়েছে। সীমানা প্রাচীর, সেন্ট্রিপোস্ট মেরামতের অভাবে শেওলা পড়ে শ্যাতশ্যাতে হয়ে আছে, আবাসিক ভবনের নানান জায়গায় প্লাস্টার উঠে গেছে। আরেকটু এগুতেই মিতালী ভবনের পোর্চ এঁর প্লাস্টার খসে পরছে, আগাছা জমে ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম। একই অবস্থা অরুনিমা, অপরাজিতা নিহারিকা সহ সবগুলো ভবনে। রাস্তায় অসংখ্য পোট হোল। পুরা ক্যাম্পাসে পাতা ও আবর্জনা পচে দূর্গন্ধ বের হচ্ছে। দিনের বেলায়ও মশার উতপাতে স্থির হয়ে দাড়ানো দূরের কথা, হেঁটে যাওয়া দায়। অথচ এই ক্যাম্পাসে মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষনের দ্বায়িত্ব থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা ডিভিশন ৪ এ বছর বছর কোটি কোটি টাকা এই ক্যাম্পাসে ব্যয় দেখানো হয়। শুধুমাত্র বিগত তিন বছরের মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষনের ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ ৪ এঁর এপিপি/আরএপিপি তে ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে ইস্কাটন গার্ডেন কোয়াটারের প্রায় ৮০টি কাজের বিপরীতে ৬কোটি ২২ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। একই ভাবে ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে ইস্কাটন গার্ডেন কোয়াটারের বিভিন্ন কাজের বিপরীতে ৭কোটি ৫১ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ইস্কাটন গার্ডেন কোয়াটারের বিভিন্ন কাজের বিপরীতে ৮কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এই যদি হয় রাষ্ট্রের গুরুত্ব পূর্ণ আমলাদের কোয়াটারের মেরামতের অবস্থা তাহলে অন্য জায়গায় কি অবস্থা তা সহজেই অনুমান করা যায়। ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ ৪ এঁর মেরামত খাতের বরাদ্দ ছয় বছর আগেও বিশ কোটির নীচে ছিলো। মাহাবুবুর রহমান নির্বাহী প্রকৌশলী হয়ে আসলে তৎকালীন পূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকারের আশীর্বাদে তা একলাফে ২৪ কোটিতে উঠিয়ে নেন। এরপর সাইফুজ্জামান চুন্নু তা ২৮ কোটিতে তোলেন।বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানা আরেক কাঠি সরস, তিনি সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের বদান্যতায় ৩১ কোটিতে তোলেন। সর্বশেষ তার জুরিসডিকশন কমলেও তার বারাদ্দ কমেনি এক টাকাও। তার পূর্বসূরী সরকারী অর্থ আত্মসাতের দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হলেও, দূর্নীতির সীমা ছাড়িয়ে গিয়েও মাসুদ রানা রয়ে গেছেন ধরা ছোয়ার বাহিরে। দুর্নীতির এই দূর্ধর্ষ খিলাড়ি ০০৭ মাসুদ রানার মূখোস আজকে আমরা উন্মোচন করবো।
ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ ৪ এঁর বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানা সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ভাগ্নি জামাই পরিচয়ে ২০২১ সালের আগস্ট মাসে ঢাকার শেরে বাংলানগর গণপূর্ত বিভাগ ৩ এ পোস্টিং পান। প্রকৃত পক্ষে মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানে রাজস্ব বাজেটে সাড়ে চারশ কোটি টাকা নিজেদের লোক দিয়ে লুটে পুটে খেতে সে সময় এঁর থেকে বিশ্বস্ত বংশদবত আর পাওয়া যায় নি। সে সময় এনবি আর ভবনের অবশিষ্ট কাজ, ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১২ ফ্ল্যাট প্রকল্প (১০০০ বর্গফুট বিশিষ্ট ৫৬ ফ্ল্যাটের ১৫ তলা ও ১২৫০ বর্গফুট বিশিষ্ট ৫৬ ফ্ল্যাটের ১৫ তলা ভবন),১২৭কোটি টাকা ব্যয়ে আগারগাও এ বহুতল শপিং কমপ্লেক্স ভবন নির্মান , ১৭৪কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি বেইজম্যান্ট সহ ১২ তলা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর অফিস ভবন নির্মান কাজে দরপত্র ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন। সে সময় শামীম আখতার এঁর দূর্নীতির অপর সহযোগী কিংডম বিল্ডার্সের মালিক নূসরত হোসেন এঁর মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক হুইপ নূরে আলম লিটন চৌধুরীর ভায়রার প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপম্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার্স; সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের বেনামী প্রতিষ্ঠান নূরানী কন্সট্রাকশন কোম্পানি লিঃ , ইউসিসি ও দ্য ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড আর্কিটেক্ট ইত্যাদি ফার্মের মাধ্যমে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বিশাল বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছেন। তিনি নিজেকে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদ নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসাবে গর্ব ভরে পরিচয় দিতেন। ২০২৪ এঁর জুলাই এঁর প্রথম সপ্তাহে তিনি ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ ৪ এ পোস্টিংপান। ২০২৪ এঁর জুলাই এঁর উত্তাল দিন গুলোতে তিনি ছাত্র গণ হত্যায় প্রত্যক্ষ মদদ দিয়ে গেছেন। তার দপ্তরেই ঢাকা কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হাসান মোল্লা (যুবলীগের সন্ত্রাসী কাউছার মোল্লার ভাগিনা) দুটি কক্ষ দখল করে অবৈধ অস্ত্র রাখতো ও টর্চার সেল বানিয়েছিলো। সেই হাসান মোল্লা হেলমেট পরে নিরীহ ছাত্র জনতার উপর গুলি চালিয়ে মূল ধারার গণ মাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে গ্রেফতার হয়েছিল। আগস্টের ৪ তারিখ পর্যন্ত তিনি ছাত্রলীগ-যুবলীগের গুন্ডাদের নিয়ে মহড়া দিয়ে পূর্ত ভবনের কর্মকর্তাদের জিম্মী করে রেখেছিলেন। তিনি আওয়ামীলীগের গুন্ডা ও ছাত্র জনতা হত্যায় জড়িত পুলিশ লীগের সদস্যদের খাবেরের ব্যবস্থা করে দিয়ে যাচ্ছিলেন, ৫ তারিখে শেখ কামালের জন্ম দিন পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, সেই উত্তাল সময়েও সব কিছু সাভাবিক আছে প্রমানে তিনি নিষ্ঠুর ভাবে সবার উপর নজরদারি করে যাচ্ছিলেন। অথচ কি নির্মম পরিহাস যিনি জুলাই এঁর চেতনাকে ধারন করেন না তার মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হলো শাহাবাগে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ। রিজিম পরিবর্তনের পরেও এই ছাত্রলীগ নেতা রয়ে গেলেন বহাল তবিয়তে। সে সময়ে তিনি ‘হ’ আদ্যক্ষরের একজন সাংবাদ মাধ্যম ব্যক্তিত্ব (যিনি সাবেক পূর্ত উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ ছিলেন মর্মে জানা যায়) এঁর মাধ্যমে টিকে যান। এরপরে গত বছর শামীম আখতারকে প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ার থেকে সরিয়ে দেয়া হলেও, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীর সাথেও তার বিশেষ সখ্যতা রয়েছে। সব আমলেই উপর মহলে ম্যানেজ করা মাসুদ রানা ধরাকে সরা জ্ঞান করে কোন নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে দূর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে যাচ্ছেন।
প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে কাল্পনিক বিল করে কোটি টাকা আত্মসাৎঃ ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের আরএপিপিতে ক্রমিক নম্বর -৪৬(অনাবাসিক কোডে) “সেগুনবাগিচাস্থ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, গণপূর্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন জোন , ঢাকা কক্ষের আনুষাঙ্গিক মেরামত কাজ (অবশিষ্ট কাজ)” এঁর জন্য ৩৪.৬০ লক্ষ টাকা বিল প্রদান করা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন ঠিকাদার ও কর্মকর্তা কর্মচারীগন সবাই জানান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, গণপূর্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন জোন , ঢাকার কক্ষের কাজটি ২০১৯-২০২০ তে সম্পন্ন হয়েছে, এঁর পরে সেখানে আর কোন কাজই করা হয়নি। অথচ মাসুদ রানা কাল্পনিক বিল করে ঠিকাদারের সাথে টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।
২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের আরএপিপিতে ক্রমিক নম্বর -৬৫(অনাবাসিক কোডে) ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২, ঢাকা কার্যালয়ের মেরামত ও সংস্কার কাজে ২২ লক্ষ টাকার ভূয়া বিল প্রদান করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২ এঁর অফিস মেরামতের কাজটি সম্পাদনের জন্য ১৬/০৫/২০২২ খ্রিঃ তারিখে এনডিই লিঃ নামক প্রতিষ্ঠান কে ২১লক্ষ ৬২ হাজার টাকার নোটিফিকেশন অব এওয়ার্ড দেয়া হয় এবং ২৫জুন ২০২২ চুক্তি সম্পন্ন হয়। এঁর পরে ওই অফিসে বিগত ৪ বছরে আর কোন মেরামত কাজ হয়নি। অবাক করা বিষোয় হলো এই দুইটি কাজই একই ভবনের যথাক্রমে চতুর্থ তলা ও দ্বিতীয় তলায়। এই এনেক্স ভবনেই তার নিয়ন্ত্রণকারী অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও ত্বত্তাবধায়ক প্রকৌশলী বসেন। তারা কি এই কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছেন মর্মে প্রত্যয়ন দিয়েছেন? উপরে বসে তারাই বা কেমন ধরনের সুপারভিশন করেন?
একই ভাবে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের আরএপিপিতে ক্রমিক নম্বর -(অনাবাসিক -২২) পূর্তভবনের অডিটরিয়াম সংস্কার করণ কাজ (সিভিল ও অভ্যন্তরীন বিদ্যুতায়ন) (অবশিষ্ট) কাজে ৫০ লক্ষ টাকাত ভুয়া বিল করে নেয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে অডিটোরিয়ামের সংস্কার কাজ শেষ হয়, সেবছরই সাবেকে প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও সাবেক সচিব ওয়াসিউদ্দীন ঘটা করে কেক কেটে অডিটোরিয়াম উদ্বোধন করেন। এঁর পর রম ওবায়দুল মুক্তাদির সহ রিজিম পরিবর্তনের পর উপদেষ্টাগন আখছার এই মিলনায়তনে অনুষ্ঠান করে গেছেন। পূর্ত ভবনের অডিটরিয়াম সংস্কার করণ কাজ।(সিভিল ও অভ্যন্তরীন বৈদ্যুতিকরন) কাজে ২০২৩ -২০২৪ অর্থ বছরে ২কোটি ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে এবং ঢাকার সেগুনবাগিচাস্থ পূর্ত ভবন ও অডিটোরিয়াম এর বাহির পার্শ্বে ওয়াদার কোট, রং করন সহ আনুুসাংগিক মেরামত কাজে ৩০লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছে। এঁর পরে আর কোন কাজ করা হয়নি। অথচ মাঝে এক বছর বিরতি দিয়ে “অবশিষ্ট” ট্যাগ লাগিয়ে হঠাত ৫০ লক্ষ টাকা বিল করা হয়েছে হরিলুট করতেই।
বিগত অর্থ বছরে স্থাপত্য ভবনের সম্মুখে ল্যান্ডস্কেপ এর কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারকে ৮৮ লক্ষ টাকা দিয়ে দিয়েছেন। যে পরিমান কাজ হয়েছে তা সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ্ টাকার প্রাক্কলন হতে পারে। পূর্ত ভবন সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে জানা যায় স্থাপত্য ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারন কাজে এই আইটেমগুলো আগেই ভেরিয়েশন করে নিয়ে খেয়ে ফেলেছেন।
খিলগাঁও সরকারি কোয়াটার যেন পুতিদূর্গন্ধময় এক পরিত্যক্ত ভাগারঃ প্রবেশ পথে ময়লার ভাগাড়, দেয়ালে প্লাস্টার খসে পড়ছে, স্যাতস্যাতে শেওলা পড়া ভবনের বহির্ভাগ; ভাঙ্গা চোরা রাস্তা । ড্রেইন এপ্রোন ভাঙাচোরা, ব্যবহার অযোগ্য ও ময়লার ভারে পূতি দূর্গন্ধময়। গত ৪ মে ২০২৬ আমাদের আলোকচিত্রি ও সংবাদ প্রতিনিধি যখন খিলগাঁও এঁর সরকারি কোয়াটারে প্রবেশ করেন তখন মুখে রুমাল চেপে রেখেও পুতিদূর্গন্ধময় পরিবেশে বমির উদ্রেক হয়। সবুজ উদ্যান/মাঠ গুলো আগাছা হয়ে মশা আর সাপকোপের উৎপাদন কারখানায় পরিনত হয়েছে। অথচ ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে খিলগাঁও সরকারি কোয়াটারের বিভিন্ন কাজের বিপরীতে ৩কোটি ২০ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। একই ভাবে ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে ইস্কাটন গার্ডেন কোয়াটারের বিভিন্ন কাজের বিপরীতে ৩কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ইস্কাটন গার্ডেন কোয়াটারের বিভিন্ন কাজের বিপরীতে ৩ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
কোন মতে ঝাড়পোছ করেই তিন নেতার মাজারে অর্ধ কোটি টাকা আত্মস্মাতঃ তিন নেতার মাজার এবং এর বিদ্যমান বাউন্ডারি ওয়াল মেরামত ও সংস্কার কাজে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে অর্ধকোটি টাকা বিল প্রদান করা হয়েছে। অথচ জুন মাসের তৃতীয় সপ্তাহে আমাদের প্রতিনিধি পরিদর্শন কালে দেখতে পান তা নোংরা পরিবেশে মাদক কারবারিদের আখড়ায় পরিনত হয়েছে। মূল স্থাপনায় মস জন্মে সুবুজ ছোপ ছোপ আস্তর পড়ে আছে, ভেতরে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে, সীমানা প্রচীর ভাঙ্গা, রাস্তায় অসংখ্য পোটহোল। অথচ ভালোকরে মেরামত করে রাখলে এই দৃষ্টি নন্দন স্থাপনাটি হতে পারতো এক পর্যটন আকর্ষণ। অথচ কাজ না করেই এখানে মাসুদ্রানা অর্ধকোটি টাকা মেরে দিয়েছেন। রাজস্ব বাজেটের এপিপিতে এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ভেরিয়েশন প্রস্তাবে দ্বৈততাঃ তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি কাজে একই কাজ উন্নয়ন প্রকল্পে ভেরিয়েশন প্রস্তাবে নেয়া আবার তা রাজস্ব বাজেটের এপিপি তে রাখার অভিযোগ উঠেছে। সুপ্রীম রেকর্ড বিল্ডিং নির্মান কাজে ও মাজার মসজিদে রাস্তা ও সীমানা প্রচীরের মেরামত কাজ উন্নইয়ন প্রকল্পের ভেরিয়েশন প্রস্তাবে নিয়ে তা আবার এপিপির কাজ থেকে করিয়ে নেয়ার নাম করে ঠিকাদারের সাথে টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ উঠেছে।
জুন মাসে কাজ না করেই বিল দিয়ে ঠিকাদারের সাথে টাকা ভাগাভাগিঃ বেগম রোকেয়া কর্মজীবি মহিলা হোস্টেল খিলগাঁও, ঢাকার ১০ তলা ভবনের অভ্যন্তরে প্লাস্টার নবায়ন, দরজা জানালা মেরামত, পানির পাইপ পরিবরতন কাজে ৪২ লক্ষ টাকার কাজে ঠিকাদারকে বিল দিয়ে দিলেও এখনও কাজ শুরুই হয় নি। একইভাবে বিসিএস প্রশাসন একাডেমীর নীলক্ষেত আবাসিক কোয়াটারের চিত্রা ভবনের মেরামত কাজে ৫০ লক্ষ টাকা, তিস্তা ভবনে ৩৭ লক্ষ টাকা এবং সুগন্ধা ভবনে ৪৫ লক্ষ টাকা বিল দিয়ে দিলেও এক টাকার কাজও হয়নি। একই ভাবে বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনের দুইটি কাজে যথাক্রমে ১ কোটি ও ৮২ লক্ষ টাকা কোন কাজ না করে বিল দিয়ে দিয়েছেন।
থোক বরাদ্দের নামে আরও উদরপূর্তির ব্যবস্থা করে দেয়াঃ এপিপির বাহিরে থোক বরাদ্দ হিসাবে “ইস্কাটন গার্ডেন সরকারি কোয়াটার্সে অরুনিমা-নিহারিকা ক্যাম্পাসের উত্তর ও দক্ষিন-পশ্চিম সীমানা প্রাচীর উচুকরনসহ ঝুকিপূর্ণ ও ভেঙ্গে যাওয়া সীমানা প্রাচীর পুণঃনির্মান” কাজের জন্য ১কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা বিল প্রদান করা হয়েছে। আমাদের আলোকচিত্রী জুন ক্লোজিং এঁর পরে সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখতে পান নিম্ন মানের ব্লক ব্যবহার করে সীমানা প্রাচীর নির্মান করা হয়েছে, কনক্রিটে ঢালাই নিম্ন মানের ব্রিক চিপস ও কাঠের সাটার ব্যবহার করে করা হয়েছে। বাজে সাটারিং, কিউরিং না করা ও সিমেন্ট চুরি করায় ঢালাই এঁর জায়গায় জায়গায় উঠে গেছে, ফলে সেগুলো আবার মর্টার দিয়ে মেকআপ করে দেয়া হয়েছে। আমরা খোজ নিয়ে জানতে পেরেছি প্রাক্কলনে স্টীলের সাটার থাকলেও ঠিকাদারকে বাড়তি সুবিধা দিতে নিম্ন মানের কাঠের সাটার ব্যবহার করা হয়েছে। কোথাও প্লাস্টার করা হয়নি এবং উপরে কাটাতার তথা বার্বেড ওয়্যার ফেন্সিং করা হনি, ওয়েদারকোট রঙ করা হয়নি। একই ভাবে “ইস্কাটন গার্ডেন সরকারি কোয়াটার্সে সোনালি-রূপালি ক্যাম্পাসের সম্মুখভাগে জরাজীর্ণ সীমানা প্রাচীর পুণঃনির্মান” কাজের জন্য ৪০ লক্ষ টাকা বিল প্রদান করা হলেও নিম্নমানের অসম্পূর্ণ রয়েগেছে। বেইলীরোডের সরকারি অফিসার্স কোয়াটার আসিয়ান, গুলফিশান ও কাহকাশান ভবনগুলোর ছাদ মেরামত, ড্রেনেজ নির্মান ও পয় প্রনালী ব্যবস্থা উন্নতি; রাস্তা সীমানা প্রাচীর মেরামত কাজের জন্য ২ কোটী ৮৬ লক্ষ টাকা ব্যয় হলেও কাজের কাজ কিছুই হয় নি।
উম্মুক্ত দরপত্রে (ওটিএম)এ টেন্ডার বানিজ্যঃ অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রধান প্রকৌশলীর প্রজ্ঞাপন অমান্য করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে মেরামত কাজ এলটিএম লটারী না করে ,মাসুদ রানা ওটিএম টেন্ডার বানিজ্য করছেন। যার আইডিগলো হলোঃ ১২৯৫৬৫১, ১২৭৪২০৫, ১২৯৫৬৪৪, ১২৮২৩৫০, ১২৮২২৫৩, ১২৮২২৫৩, ১২৮১১৭৪, ১২৮২১৩৩, ১২৮৪৫৮৯, ১২৮৪৩৯৭, ১২৮২৩৪৮, ১২৯৬২৬০, ১২৭৬৮২২, ১২৭৫২৬৯, ১২৮৩৩৭৭, ১২৭৫৬৩২, ১২৭৫৪৭৮, ১২৮৪৫৯৭, ১২৮৩৫৬৮, ১২৮৩৭২০, ১২৮৩৭৫১, ১২৭২৮৩৮, ১২৮৪২৯৮, ১২৭৫৪০২, ১২৭৫৫২৮, ১২৭৫৪২৯, ১২৭৫৬১২, ১২৭৫৫৭০, ১২৭৫৩৭১, ১২৭২৮১৮, ১২৭২৭৭৭, ১২৭২৮৩৩, ১২৭২৭৩, ১২৩৬৪১৯, ১২৪৪৯০৯, ১২৪৭৯৯৯, ১২৪৪৪৬১, ১২৩৬০৭৫, ১২৫২৭২৩, ১২৫২৩১০, ১২৪৮০২৩, ১২৩৫৭০৬, ১২৩৬২৩৯, ১২৫২৮৯৮, ১২৫২৭৫৪, ১২৫২৯২৯, ১২৪৭৯৮৯, ১২৪৮০০৪, ১২৫৮০১৮, ১২৪৮০১৯, ১২৪৭৭০৩, ১২৪৭৬৪৯, ১২৪৪৪৪৭, ১২১৯৫৯৮, ১২৪৫৭৪২, ১২১৭৬১৯, ১২১৯৬১০, ১২১৯৫৭৯, ১২১৯৬০৩, ১১৮৩৮০৫, ১২০২৭২৪, ১২০২৭১৮, ১২০২৭২৫, ১১৬৩৬২২। মূলত নিজস্ব সিণ্ডিকেট তৈরী করে এসএলটি আগে থেকেই ক্যালকুলেশন করে নিজের পছন্দের ঠিকাদার কে কাজ দিতে তিনি এই কৌশল অবলম্বন করেছেন। বিনিময়ে মোটা অঙ্কের উৎকোচ পেয়েছেন। কিন্তু প্রজ্ঞাপন অমান্য করলেও মাসুদ রানাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনছেন না প্রধান প্রকৌশলী। কেননা প্রধান প্রকৌশলীর দুই ভাই এঁর সাথে তার বিশেষ সম্পর্ক ও নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে মর্মে গোপন অনুসন্ধানে জানা যায়।
দূর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অঢেল সম্পদের বিবরনঃ তিনি রাজধানীর রামপুরায় ডি -ব্লকে প্লট নম্বর-৫৪, নিজস্ব ৫ তলা বাড়ির নির্মান করেছেন। তাছাড়া মোহাম্মদপুর বাবররোডে ১৭৯/এ প্লটটিও তিনি বেনামে কিনেছেন। পান্থ পথে বসুন্ধরা সিটিতে মোল্লা ম্যানসন নামের দোকানটির মালিকও তিনি। তাছাড়া রাজশাহী উপশরে ১০ কাঠা প্লট, ঢাকার অভিজাত প্রতিটি এলাকায় ফ্ল্যাট কেনা তার অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। মাসুদরানা নিশ্চয়ই জাদুমন্ত্র জানেন, না হলে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারনে সীমিত আয়ের সরকারি কর্মচারীদের সংসার চালাতে যেখানে ত্রাহী-মধুসূদন অবস্থা সেখানে তার বেতনে এত বরকত হয় কোথা থেকে? ঢাকা শহরে লাগাতার ছয়টি অর্থ বছর পার করে তিনি ফুলে ফেপে উঠেছেন। ফ্যাসিস্ট এঁর সময়ে তিনি মহা ছাত্রলীগার, ২৪ এঁর ৫ আগস্টের পরে তিনি জাতীয় নাগরিক প্লাটফর্ম (পরবর্তীতে এনসিপি) এঁর অনুষ্ঠানে যেতেন, এনসিপিকে চাঁদা দিতেন। শামীম আখতারের সরকারি বাসভবনে তিনি নভেম্বর ২০২৪ এ ডিনারের নামে প্রাইভেট মিটিং এঁর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সে সময় তার কথিত ‘হাদী ভাই(শরীফ ওসমান হাদী নন)” ও এক চুক্তিভিত্তিক সাবেক দাপূটে আমলার সাথে তার দহরম মহরম আছে মর্মে দাপট দেখাতেন। এখন নিজেকে খুব বিএনপি পন্থী জাহিরে ব্যস্ত। বর্তমান সিন্ডিকেটের দ্বিতীয় গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তি ও ক্যাশিয়ার হিসাবে তিনি লাগামছাড়া দূর্ণীতি করে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। টাকা ছিটিয়ে তিনি আবার মিডিয়া মাফিয়া সেজেছেন, এক মিডিয়া ম্যানেজারকে নাকি তিনি মাসিক দেড় লক্ষ টাকা বেতনও দেন। তা এত কিছু ম্যানেজ করতে একটু আধটূ দূর্নীতি তো তিনিকরবেনই। এমনকি তিনি দূদকে নীচের দিকে কর্মচারীদের ম্যানেজ করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগপত্র গায়েব করে দেন। নিজের অধিদপ্তর, প্রশাসন, মিডিয়া, কিংবা অভিযোগপরে গায়েব করে এত দিন পার পেয়ে গেলেও এবার এই দূর্ধর্ষ দূর্নীতিবাজ আমাদের জালে ধরা। জনগনের করের টাকা মেরে খাওয়াকে তিনি তার ন্যায্য অধিকার মনে করেন। তার অনিয়ম, দূর্নীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহার করে কামানো অবৈধ সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হোক। তার সম্পদ বাজেয়যপ্ত করে পাবলিক ডিমান্ড রিকোভারি এক্ট এ তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হোক। তদন্ত ও বিচার বিলম্বিত করে এবার তাকে দায়মুক্তি দেয়ার চেষ্টা করা হলে মানব বন্ধন, সংবাদ সম্মেলন বা জায়গামতো স্মারক্লিপি প্রদানের মতো কঠোর নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচী অবশ্যম্ভাবী।










