গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ পারভেজের বিরুদ্ধে জুন মাসে অভিনব কায়দায় ‘টেন্ডার বাণিজ্য করে কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ

সময়: 2:36 pm - August 11, 2026 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: এলটিএম (Limited Tendering Method) পদ্ধতির পরিবর্তে অভিনব কায়দায় ওটিএম (Open Tendering Method) পদ্ধতিতে একের পর এক দরপত্র আহ্বান করে বিশাল ‘টেন্ডার বাণিজ্য’ ও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকার শেরেবাংলানগর গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নাহিদ পারভেজ বিরুদ্ধে। এপিপির কাজ প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকার প্রজ্ঞাপন অমান্য করে ও স্বচ্ছতা নীতিকে তোয়াক্কা না করে গত জুন মাসেই তিনি প্রায় ৩৪টি ওটিএম দরপত্র আহ্বান করেছেন, যা নিয়ে খোদ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে তীব্র গুঞ্জন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জুন মাসের ২১ তারিখ দরপত্র ওপেনিং করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে ২৩ তারিখ বিল প্রদান করে একইভাবে একাধিক দরপত্র ১৭ জুন ওপেনিং করে ২৩ তারিখ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চেক প্রদান করেছেন এত অল্প দরপত্র নিষ্পত্তি কখন করলো কখন কাজ সমাপ্ত করলো এই নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে অনেকে অভিযোগ করছে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নাহিদ পারভেজ ভাগভাটোরায়া করার জন্য কয়েক কোটি টাকার ৩৪ টি দরপত্র জুন মাসে আহবান করছেন। ১৫ তারিখে দরপত্র ওপেনিং দেখিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে ২৩ বিল প্রদান করেছেন। জুন মাসের আগে তিনি তেমন দরপত্র আহবান করেন নি তিনি তখন ডিপিএম বানিজ্য নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কোটি কোটি টাকা সংসদ ভবন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ নামে পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে ডিপিএম পদ্ধতিতে কাজ দিয়ে সরকারের অর্থ অপচয় করে নিজের পকেট ভারী করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগের অন্য কোনো সিভিল বিভাগ যেখানে ওটিএম পদ্ধতিতে এ ধরনের ঢালাও দরপত্র আহ্বান করেনি, সেখানে শেরেবাংলানগর গণপূর্ত বিভাগ-১ এ এই কর্মকর্তার ওটিএম প্রীতি এবং রেট নিয়ে কারসাজির বিষয়টি বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক কেলেঙ্কারির ইঙ্গিত দিচ্ছে। জুন মাসে কোটি কোটি টাকার ৩৪টি ওটিএম দরপত্রের ‘রেকর্ড’ করেছেন। অনুসন্ধানে দেখা যায় অর্থ লোপাট করার জন্য এই স্বল্প সময়ের মধ্যে আহ্বান করা উল্লেখযোগ্য ৩৪টি দরপত্র আইডি (Tender ID) নিচে তুলে ধরা হলো:

দরপত্র আহ্বানের তারিখ সংশ্লিষ্ট দরপত্র আইডি (Tender IDs)
২১জুন, ১৭ জুন ও ১৫ জুন ২০২৬ খ্রিঃ ।
Id.no.1295786 Id.no.1295787 Id.no.1295426 Id.no.1293958 Id.no.1293959 Id.no.1293960 Id.no.1293962 Id.no.1293957 Id.no.1293956 Id.no.1293954 Id.no.1293955 Id.no.1293953 Id.no.1288203 Id.no.1288597 Id.no.1288598 Id.no.1288208 Id.no.1288202 Id.no.1288206 Id.no.1288205 Id.no.1288204 Id.no.1288201 Id.no.1288200 Id.no.1288198 Id.no.1288199 Id.no.1284626 Id.no.1284625 Id.no.1284624 Id.no.1284623 Id.no.1284621 Id.no.1276018 Id.no.1276020 Id.no.1276017 Id.no.1276016

অভিযোগ রয়েছে, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার নামে ওটিএম করা হলেও পর্দার আড়ালে নির্দিষ্ট চক্রের সাথে সমঝোতা (রেট ফিক্সিং) করে এই জুন মাসে বিপুল সংখ্যক টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্যই হলো কোটি কোটি টাকা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন। মোঃ নাহিদ পারভেজ ইতিপূর্বে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে মাগুরা ও নড়াইল গণপূর্ত বিভাগ দুর্নীতিরো স্বর্গরাজ্যে পরিনত করছেন দৈনিক মানব কথার অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরা হলো। ভূয়া বিল-ভাউচারের গডফাদার হিসাবে পরিচিত গণপূর্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাহিদ পারভেজের নিশানায় এবার জাতীয় সংসদ ভবন। লুটপাট, বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসাসহ বহুগুণে গুণান্বিত গুণধর এই কর্মকর্তা ইতোপূর্বে জানুয়ারী/২০২০ থেকে এপ্রিল/২০২৪ পর্যন্ত নড়াইলে এবং এপ্রিল ২০২৪ থেকে নভেম্বর/২০২৫ পর্যন্ত মাগুরা গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বে। গণপূর্ত অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য তুলে ধরা হলো। সে সময়ে আওয়ামী লোকদের কাজ পাইয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরণের সেবা দিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে নিজেকে ধন্য করেছেন। এর ফলে ২০২৪ এর জুলাই বিপ্লবের পরেও মাগুরায় একচেটিয়া কাজ পেয়েছে ওই সকল প্রতিষ্ঠান। তথ্য

আওয়ামী সরকারের প্রথম টার্মে এসডিই ও সহঃ প্রকৌশলী হিসেবে ছিলেন ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ডিভিশনে। আওয়ামী সরকারের ২য় টার্মে পোষ্টিং বাগিয়ে নিয়ে ভবনের নকশা। নকশা অনুমোদনে ঘুষ বাণিজ্যের ফোয়ারা বইয়ে দিয়েছেন এই প্রকৌশলী। প্রায় তিন বছরে রাজউকে থাকতে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত থাকছে পরবর্তীতে। নিবাহী প্রকৌশলী । তিনি দীবর্তমানে শেরে বাংলা নগর ১নং গণপূর্ত বিভাগের বছর নড়াইলে থাকতে ঢাকা ও কুস্টিয়া একে ঠিকাদার ডেকে নিয়ে তাদের নামে বেনামে ঠিকাদারী ব্যবসা করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের বাস্তাবায়নের নামে প্রায় ১০ কোটি টাকা লোপাট করেন। নড়াইলে নতুন সার্কিট হাউজ এবং সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও রেনোভেশন প্রকল্পে হরিলুট চালিয়েছেন এই প্রকৌশলী। এই দুই প্রকল্প থেকেই তিনি কমপক্ষে ৫কোটি টাকা লোপাট সুলেছেন, বাল্যে সানি নির্ভর কোথাকার জানায়। প্রকল্প দুটোতে অসংখ্য মধ্যে দৃষ্টান্ত স্বরুপ হচ্ছে, হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পে অভি ইন্টারন্যাশনাল (প্রাঃ) লি: নামক প্রতিষ্ঠানের নামে লট নম্বর ৪ এর আওতায় ২কোটি ৪০ লক্ষ ৮০ হাজার ৯শ’১৬ দশমিক শুণ্য আট এক এক টাকা চুক্তিমূল্যে সদর হাসপাতালে ১০০ ২০২২-২৩ অর্থবছরে সম্পা (প্রাঃ) বাইরের বিদ্যুতায়ন, সাবষ্টেশন যন্ত্রপাতি, এইচটি স্যুইচ গিয়ার এলটি স্যুইচ পিয়ার পিএফআই এইচটি ক্যাবল এলটি ক্যাবল লাইটিং এরেষ্টার ড্রপ আউট ফিউজ জেনারেটর ওভারহেড লাইন কম্পাউন্ড ও গার্ডেন লাইট এয়ারকুলার ফায়ার প্রটেকশন সিস্টেম পিএবিএক্স সিষ্টেম সেলার প্যানেল ও সিসিটিভি স্থাপন চালু ও পরীক্ষাকরণ কাজ, একই অর্থবছরে একই হাসপাতালে লট নম্বর ২ এর আওতায় ২ কোটি ৫৮ লক্ষ ৫৮ হাজার ১৭ দশমিক আট ছয় আট টাকা চুক্তিমূল্যে একই ঠিকাদারের নামে একই ধরণের কাজ, একই অর্থবছরে একই হাসপাতালে লট নং (৩বি) এর আওতায়

ঢাকার বাবর এসোসিয়েটস নামক ঠিকাদারের নামে ১ কোটি ৩ লক্ষ ৮৯ হাজার ৬০ দশমিক ৫শুণ্য ৪ টাকা চুক্তি মূল্যে একই ধরণের কাজ; একই আর্থবছরে ওই হাসপাতালে লট নম্বর ৩(এ) এর আওতায় ঢাকার খান এন্ড সন্স নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে ১কোটি ৬৩ লক্ষ ৭৩ হাজার ১শ’ ৫১ দশমিক ৪৪১ টাকা চুক্তি মূল্যে ফায়ার প্রটেকশন ডিটেকশন ও ফায়ার এক্সটিনগুইসার সরবরাহ ও স্থাপণ কাজ; একই অর্থবছরে একই হাসপাতালে ২ কোটি ৭৮ লক্ষ ৯৯ হাজার ৮শ’ ৪০ দশমিক ৭০০ টাকা চুক্তিমূল্যে মেডিকেল গ্যাস সিষ্টেম সরবরাহ ও স্থাপন কাজটি স্পেকট্রা ইন্টারন্যাঃ ও বাবর এসোসিয়েটস্ জেভি নামক ঠিকাদারকে পাইয়ে দেওয়া হয়। মেডিকেল গ্যাস সিষ্টেম এর এই কাজটিতে অত্যন্ত নিম্নমাণের মালমাল সরবরাহ ও স্থাপণ করার কারণে তা বর্তমানে পুরোপুরি অকার্যকর অবস্থায় আছে বলে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। অত্যন্ত নিম্নমাণের কারণে একদিনের জন্যও এই মেডিকেল গ্যাস হাসপাতালের রোগীদের জন্য ব্যবহার করা যায়নি। অথচ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পুরো বিল তুলে নিয়েছে ওই অর্থবছরে। একই সাথে বৈদ্যুতিক সাবষ্টেশন এইচটি এলটি ক্যাবল ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সিডিউল বহির্ভূত অত্যন্ত নিম্নমাণের লাগানোর কারণে প্রতিবছর এখাতে এপিপি থেকে বরাদ্দ দিয়ে মেরামত রক্ষনাবেক্ষণ করিয়ে ইলেকট্রিক সিষ্টেম সচল রাখতে হচ্ছে।

একই প্রকল্পে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭ কোটি ৮৫ রক্ষ ৩৫ হাজার ৭শ’ ৪৯ দশমিক ১৪০ টাকা চুক্তিমূল্যে ১০তলা ফাউন্ডেশনে ৬তলা ডক্টরস ডরমেটরি কারসাজির আশ্রয় নিয়ে ময়মনসিংহের নাঈমা এন্টারপ্রাইজ ও ইডেন প্রাইজ ভবন নির্মাণ কাজটি মোটা অংকের পার্সেন্টেজের বিনিময়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জেভি নামক প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেওয়া হয়। এই ভবন নির্মাণ কাজে ব্যাপক কারিগরী অনিয়মের আশ্রয় নেয়ার কারণে অসংখ্য অডিট আপত্তির মুখে পড়তে হয় ডিভিশনটিকে। একই প্রকল্পে একই অর্থবছরে ৪ কোটি ৯৮ রক্ষ ৭২ হাজার ২শ’১ দশমিক ৯৩০ টাকা চুক্তিমূল্যে ৬তলা ভিত বিশিষ্ট ৬তলা আরেকটি ভবন নির্মাণে কাজ কুষ্টিয়ার গ্যালাক্সি এসোসিয়েটস্ নামক প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেন দুর্নীতিবাজ ঘুষখোড় ধুরন্ধর নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ পারভেজ। একই অর্থবছরে ৩কোটি ৮৫ লক্ষ ৯১ হাজার ৯শ’ ৯৯ দশমিক ৯৯৯ টাকা চুক্তিমূল্যে ৪টি ১২৫০ কেজি লিফট সরবরাহ স্থাপন ও টেষ্টিং কমিশনিং কাজটি পাইয়ে দেওয়া হয় হরিজন টেকনোলজি লি: নামক ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানকে। চাইনিজ অরিজিন লিফট স্থাপণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। এখাতে প্রায় দ্বিগুণ প্রাক্কলন করিয়ে প্রায় কোটি টাকা লোপাট করে নিম্নমাণের হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজ নিয়েও ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন এই প্রকৌশলী।

এছাড়াও সার্কিট হাউজ প্রকল্পে ৬ তলা ফাউন্ডেশনে ৬তলা ভবন নির্মাণ, একই প্রকল্পের আওতায় ৪তলা ব্যারাক ভবন, সেমিপাকা কিচেন ভবনসহ সাবষ্টেশই ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল ইলেকট্রিফিকেশন মাস্টার ড্রেইন সারফেস ড্রেন ওয়াটার রিজার্ভার সোলার প্যানেল অভ্যন্তরীণ সড়ক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ এলটিএম জালিয়াতিসহ একইভাবে তিনি মাগুরা ডিভিশনে দেড়বছরে বিল-ভাউচারের মাধ্যমে লুটতরাজ চালিয়েছেন বিভিন্ন প্রকল্প ও বাছিয়া মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজগুলো নিয়ে। মাগুরার বিষয়ে দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকৌশলী নাহিদ পারভেজকে নিয়ে তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হলেও তিনি ধরাছোয়ার বাইরে থেকে লোভনীয় পোষ্টিং বাগিয়ে নিয়েছেন এবং শেরেবাংলানগর গণপূর্ত বিভাগ-১ প্রথম জুন ক্লোজিং মাসে অভিনব কায়দায় ওটিএম পদ্ধতিতে টেন্ডার বানিজ্য করে কয়েক কোটি হাতিয়ে নিয়েছেন নাহিদ পারভেজ।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর