৮ দফা না মানলে এক দফার জন্য প্রস্তুত হন: শফিকুর রহমান

সময়: 11:21 am - September 19, 2026 |

শহিদুল ইসলাম:

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি জনগণের সঙ্গে বেঈমানি করছে’ বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।  ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কাঠফাটা রোদের মধ্যে মানুষের উপস্থিতি ৮ দফা দাবি আদায়ে তাদের প্রস্তুতির প্রমাণ। ৮ দফা দাবি মানা না হলে আন্দোলন এক দফায় রূপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘দেখা হবে রাজপথে, ইনশাআল্লাহ।’ শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, দেশে দখলদারি, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। তাঁর দাবি, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি ছিল দেশের সংস্কার, গণহত্যার বিচার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। তিনি বলেন, বিএনপি জুলাইয়ের চেতনা পদদলিত করে একচেটিয়া দলীয়করণের পথে হাঁটছে—এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জনগণের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তাদের বাধ্য করা হবে।

‘জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি’

জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান দেখানো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শর্ত। জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘জনগণের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে কর্মসূচি’

এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ তাদের মতামত দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাইয়ের জনগণের রায় বাস্তবায়নের কথা তারা বারবার বলেছেন। সংসদে প্রতিবাদ ও রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরার পরও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে রাজপথে কর্মসূচি দেওয়ার বিকল্প থাকে না। সেই ধারাবাহিকতায় ১১ দলীয় জোটসহ তারা রাস্তায় নেমেছেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ পালন করা হচ্ছে। এটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি উল্লেখ করে তিনি বলেন, লংমার্চে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে জনগণ তার জবাব দেবে।

ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ:

এর আগে শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশের পর ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হয়। কর্মসূচির পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় লংমার্চের বহর দুপুরের দিকে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে পৌঁছায়। সেখানে আয়োজিত জনসভায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য দেন।

জনসভায় বিভিন্ন দলের নেতারা:

সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান আল্লামা মামুনুল হক, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, ঢাকা দক্ষিণ জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সচিব সারজিস আলমসহ জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা। ১১ দলীয় ঐক্যের এ লংমার্চের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস-সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের বিষয়গুলো রয়েছে বলে কর্মসূচি-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর