নৌ পরিবহন অধিদপ্তরকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিনত করেছে মহাপরিচালক ও ক্যাপ্টেন গিয়াস সিন্ডিকেট

সময়: 1:48 pm - May 10, 2026 |

মানব কথা ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন আহমদের নামে দুদকে মামলা হলেও ডিজি রেখেছেন তাকে বহাল তবিয়তে।

নদীমাতৃক বাংলাদেশের নৌ সেক্টরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আমদানি-রফতানি, অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহন ও কর্মসংস্থানের একটি বিশাল অংশ পরিচালিত হয়ে থাকে। এই খাত থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শফিউল বারীর বিরুদ্ধে ওঠা সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ সেক্টরটি চরম সংকটের মুখে পড়েছে। সরকার ঘোষিত “পণ্য পরিবহন নীতিমালা ২০২৪”-এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সকল জাহাজ মালিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বাস্তবে এই নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ না হয়ে বরং এর অপব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমান মহাপরিচালক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অজুহাতে পায়রা বন্দর ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে কতিপয় জাহাজ মালিকদের সঙ্গে আঁতাত করে শতাধিক জাহাজ সিরিয়ালবিহীন চলাচলের সুযোগ প্রদান করছেন-যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে, কিছু অসাধু জাহাজ মালিক ও নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ নেতাদের নিয়ে সিন্ডিকেট গঠন করে নীতিমালার তোয়াক্কা না করে শত শত সিরিয়ালবিহীন জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। নীতিমালা অনুসরণকারী জাহাজ মালিকগণ দীর্ঘ সময়ে ট্রিপ না পেয়ে লোকসানের ঘানি টানতে ইতোমধ্যে কয়েকশত জাহাজ স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন, যারফলে কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। তাছাড়া কয়েক হাজার বান্ধহেড জাহাজ মাস্টার/ড্রাইভার ছাড়াই অদক্ষ শ্রমিক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে এবং বৈধ কাগজপত্র ও বে-ক্রসিং পাশ ব্যতীত বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে।
এর ফলে একদিকে দক্ষ মাস্টার ও ড্রাইভার কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে নৌ দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সরকার রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। তদুপরি, প্রতি তিন মাস অন্তর পরীক্ষার নামে অদক্ষ শ্রমিকদের পাশ করিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে। মহা পরিচালকের ভাই নিজে তদবির মোটা টাকা নিয়ে পাশ করিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে বারবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া স্বত্ত্বেও মহাপরিচালক কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। সম্প্রতি জাহাজের লোকেশন শনাক্তকরণের জন্য ডিজিটাল অ্যাপ চালুর উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই; তবে এটি যেন লোক দেখানো না হয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর হয়, সে বিষয়ে জোর দাবি জানাচ্ছি। দৈনিক মানব কথার অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে গাজীপুর লজিস্টিক কোম্পানির ১৮টি জাহাজকে সিরিয়ালবিহীন চলাচলের অনুমতি প্রদান করা হয় (তারিখ: ২০/০৫/২০২৫)। পরবর্তীতে ২৫/০১/২০২৬ তারিখে অনুমতি বাতিল করে জাহাজ আটক করার নির্দেশ দেওয়া হলে কয়েকদিন পর পুনরায় আটককৃত জাহাজগুলো ছেড়ে দিতে নির্দেশ দিলে আমরা মালিক সমিতির সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করতে চাইলে ডিজি মহোদয় ক্ষিপ্ত হয়ে নদীতে কোস্টগার্ড নামিয়ে আটককৃত গাজীপুর লজিস্টিকের জাহাজসহ আরও ১৫টি সিরিয়ালবিহীন জাহাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার (সিএনএস) ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হলেও দুদক আইন আনুযায়ী সাময়িক বরখাস্তের পরিবর্তে চাকুরি তে বহাল তবিয়তে মহাপরিচালক কে নিয়ে ঘুষ বাণিজ্যের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই গিয়াস উদ্দিন আহমদ ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিস্ট হাসিনার এলাকার গোপলী দোস। ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে বাড়ি-গাড়ি, ফ্ল্যাট, জমিসহ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন তিনি।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর