শি–পুতিন বৈঠকে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার, ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পুনর্ব্যক্তি
মানব কথা:চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। বুধবার (২০ মে) বেইজিংয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের শুরুতেই এ মন্তব্য করেন পুতিন, যা দুই দেশের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বের নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।বৈঠকে পুতিন বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক ইস্যুতে রাশিয়া ও চীন ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। তিনি শি জিনপিংকে উদ্দেশ করে বলেন, “আমার প্রিয় বন্ধু, আপনাকে দেখে আমরা সত্যিই আনন্দিত। আমরা সবসময় যোগাযোগে আছি।”চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, শি জিনপিংও দুই দেশের মধ্যে ‘রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা ও কৌশলগত সহযোগিতা’ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অতীতেও তিনি পুতিনকে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।দুই নেতা বৈঠকে জ্বালানি, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। চীন–রাশিয়া ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত বন্ধুত্ব চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলেও জানা গেছে।২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চীন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদারে পরিণত হয়েছে। যদিও বেইজিং নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি করে আসছে, তবুও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য নতুন কোনো চুক্তির চেয়ে বরং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করা এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বেইজিংয়ের অবস্থান তুলে ধরা।এদিকে শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দ্রুত শেষ করতে ‘পূর্ণ যুদ্ধবিরতি’র আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংঘাত বন্ধ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, শিল্প উৎপাদন এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে স্থিতিশীলতা ফিরবে। পুতিনের সফরে জ্বালানি খাতকে কেন্দ্র করে একাধিক নতুন সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।









