সাংবাদিকতায় সরকারের হস্তক্ষেপ থাকবে না: তথ্যমন্ত্রী
তাহের মাহমুদ:
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও অর্জনের পেছনে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, ডিআরইউর নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক নেতারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আজকে আমরা যেখানে আছি, গণমাধ্যম আছে বলেই সেখানে আছি। গণমাধ্যম সবসময় যে ভূমিকা নিয়েছে, তার কারণে আজকে আমাদের যত অর্জন। আমরা যেখানে আছি, বাংলাদেশের গণতন্ত্র আজ যে পর্যায়ে আছে, এর সমান সমান ক্রেডিট গণমাধ্যমের।” তিনি বলেন, একটি দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, অনিয়ম-অসঙ্গতি এবং জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরার মাধ্যমে সাংবাদিকরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন পরিবেশ থাকা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “ইনশাআল্লাহ আমাদের সময়ে আপনারা ফ্রি মিডিয়া পাবেন এবং আমাদের তরফ থেকে কোনো ধরনের মিডিয়া বা আপনাদের সাংবাদিকতায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছা নাই।” তিনি বলেন, সাংবাদিকরা যেন স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ, অনুসন্ধান ও প্রকাশ করতে পারেন, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং একই সঙ্গে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী সাংবাদিকদের কল্যাণে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে বর্তমানে বরাদ্দকৃত অর্থ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নানা ধরনের আর্থিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন। সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন। এ সময় সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা এবং সাংবাদিকদের কল্যাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক বিকাশে সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে ডিআরইউর নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।









