২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা
মিজানুর রহমান :
দেশে হামের প্রকোপ কিছুতেই কমছে না। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৯৪ জনের শরীরে হাম বা হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৯০৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত কয়েক মাসে দেশে হামের সংক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ১৯৪ জন রোগী শনাক্ত হওয়ায় এ পর্যন্ত হামের সন্দেহভাজন ও উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে ১৯ হাজার ৮৩৫ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক মানুষ হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের আওতায় এলেও তাদের সবার ক্ষেত্রে পরীক্ষাগারে হাম নিশ্চিত হয়নি। হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত এক দিনে আরও সাতজনের মৃত্যু হওয়ায় উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০৬ জনে। এর সঙ্গে নিশ্চিত হামে মারা যাওয়া ১০০ জনকে যোগ করলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৬ জন।
একসময় বাংলাদেশে হাম নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ও রোগ প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে দেশটি হাম নির্মূলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণের ব্যাপক বিস্তার পরিস্থিতিকে নতুন করে উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে। গত মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঘটনা বেশি সামনে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া ও শরীরে র্যাশসহ হামের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হালনাগাদ তথ্যেই সংক্রমণের বিস্তারের চিত্র উঠে আসছে। একদিকে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগী শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে ৯০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে, যা মোট মৃত্যুর বড় অংশ। অন্যদিকে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার রোগীর ক্ষেত্রে পরীক্ষাগারে হাম নিশ্চিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পরিবার ও সমাজের পর্যায়েও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়মিতভাবে হাম পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রতিদিন নতুন করে বিপুলসংখ্যক রোগী শনাক্ত এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় দেশে চলমান হাম পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।









