মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে অপতথ্য ও অতিরঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে: সেমিনারে বক্তারা
এ এফ এম রাসেল পাটোয়ারী:
মাদরাসা ও ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে প্রচলিত অপতথ্য, ভুল ধারণা ও নেতিবাচক জনধারণা দূর করতে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা এবং গবেষণাভিত্তিক মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বক্তারা। তাঁরা বলেছেন, বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে সামগ্রিক একটি শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা সমীচীন নয়। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরে জনআস্থা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর কাটাবন মসজিদ কমপ্লেক্সের দ্য মেসেজ একাডেমি অডিটরিয়ামে ‘মাদরাসা ও ধর্মীয় শিক্ষা: অপতথ্য, বাস্তবতা ও জনআস্থার প্রশ্ন’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। রাবেতাতুল উলামা বাংলাদেশ এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক। কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির লেকচারার শায়খ এইচ এম রবিউল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতি ড. জাকারিয়া নূর, খতিব ও সাংবাদিক শায়খ আলী হাসান তৈয়ব এবং ক্যারিয়ার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মুফতি আফজাল হোসাইন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে যে পরিমাণ অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তার অনেক ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জন রয়েছে এবং এসব তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবেও ছড়ানো হচ্ছে। বক্তারা বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে যেকোনো আলোচনা ও মূল্যায়ন হতে হবে তথ্য, গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। বিচ্ছিন্ন ঘটনা কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর করে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা উচিত নয়। তাঁরা মাদরাসা শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, সময়োপযোগী সংস্কার এবং এ শিক্ষাব্যবস্থার ইতিবাচক অর্জনগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সেমিনারে মাদরাসা ও ধর্মীয় শিক্ষার উন্নয়ন, গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার এবং গবেষণাভিত্তিক জনমত গঠনে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। রাবেতাতুল উলামা বাংলাদেশের অন্যতম সদস্য লুৎফুর রহমান ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম-উলামা, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে রাবেতাতুল উলামা বাংলাদেশের অন্যতম উদ্যোক্তা মুফতি মাহমুদুল হাসান হাশেমী অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।















