হরমুজ প্রণালি বন্ধের শঙ্কায় তেলের দাম বেড়েছে এক লাফে ১০%

সময়: 2:46 pm - March 1, 2026 |

মানব কথা: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পড়ায় তেলের দামে হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার ওভার-দ্য-কাউন্টার লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে।

বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সোমবার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারেও পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

আইসিআইএসের জ্বালানি ও রিফাইনিং বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার রয়টার্সকে বলেন, “যে কোনো সামরিক হামলা তেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগ করে দেয়। তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া।”

পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি, যার এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান।

বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটি বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রাণরেখা হিসেবে বিবেচিত।

ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতার থেকে অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এই সরু পথ দিয়েই চলাচল করে।

তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসছিল, ইরান আক্রান্ত হলে এই নৌপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা করার পর সেই কাজটিই তারা করেছে।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের পক্ষ থেকে জাহাজগুলোর ভিএইচএফ চ্যানেলে এই বার্তা দেওয়া হয় যে, “হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।”

এরপর অধিকাংশ ট্যাংকার মালিক, তেল কোম্পানি ও ট্রেডিং হাউস হরমুজ প্রণালি হয়ে অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন স্থগিত করেছে।

বিশ্বের মোট তেল, কনডেনসেট ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা তেলের প্রায় ৮২ শতাংশ যায় এশিয়ায়, বাকি অংশ ইউরোপে। চীনের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ২৪ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়।

প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করে; ব্যস্ত সময়ে কখনও কখনও প্রতি ছয় মিনিট পরপর জাহাজ চলতে দেখা যায়।

পারমার বলেন, “সোমবার বাজার খুললে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি উঠতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা দেখা দিলে সেই মাত্রা ছাড়িয়েও যেতে পারে।”

আরবিসির বিশ্লেষক হেলিমা ক্রফট বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘেমেয়াদী যুদ্ধ শুরু হলে তেলের দাম ১০০ ডলারেরও ওপরে উঠতে পারে। বার্কলেজের বিশ্লেষকরাও একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক প্লাস রোববার এপ্রিল থেকে দৈনিক তেল উৎপাদন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল বাড়াতে সম্মত হয়েছে। এই বৃদ্ধি বৈশ্বিক চাহিদার ০.২ শতাংশেরও কম, অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে সামান্য।

রাইস্টাড এনার্জির জ্বালানি অর্থনীতিবিদ হোর্হে লিওন বলেন, হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে কিছু পথ ব্যবহার করা গেলেও প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের ঘাটতি তৈরি হবে।

রাইস্টাডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নতুন সপ্তাহের লেনদেন শুরু হলে তেলের দাম আরও ২০ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯২ ডলারে উঠতে পারে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর