শত কোটি লোপাটের অভিযোগ: এক মাসে দুইবার বদলি হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বে ফ্যাসিবাদের দোসর গনপূর্তের প্রকৌশলী ইউসুপ

সময়: 3:38 pm - February 23, 2026 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক প্রতি মন্ত্রী শরীফ আহমেদের আস্থাভাজন নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌশলী ইউসুপ কারখানা বিভাগ থেকে শত কোটি লোপাট করে নির্বাচনের মধ্যে দুই বার অর্ডার করে প্রাইজ পোষ্টিং বাগিয়ে নিয়েছেন।

এক মাসে দুই বার বদলী আদেশ করে ফ্যাসিস্ট প্রতি মন্ত্রীর কাছের লোক পেলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্ব।

সাবেক প্রতি মন্ত্রী মোঃ শরীফ আহমেদের মেয়ে ও মদ সাপ্লাইয়ার নির্বাহী মোহাম্মদ ইউসুপ গণপূর্ত ইএম কারখানা বিভাগ হতে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ফ্যাসিবাদ সরকারের অন্যতম দোসর ইউসুপ কারখানা বিভাগ হতে ওএসডি করার অল্প কিছু দিন পর নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষনার পরও অদৃশ্য শক্তি ও বিরাট অংকের উৎকোচের বিনিময়ে আবরাও পেল প্রাইজ পোষ্টিং বাগিয়ে নিয়েছেন। গত ০১ জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিঃ প্রজ্ঞাপন নং ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৭.১১- ০৩ মাধ্যমে প্রধান প্রকৌশলী মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন জার্রি করেন। সেই প্রজ্ঞাপনে মোহাম্মদ ইউসুপ রিজার্ভ থেকে গণপূর্ত ইএম বিভাগ-১৩ এ প্রাইজ পোষ্টিং পদায়ন দেয়া হয়। এই ইউসুপ এতই ক্ষমতাধর যে এক মাসের ব্যবধানে আবার গণপূর্ত ইএম বিভাগ-১৩ থেকে গণপূর্ত ইএম বিভাগ-১ গত ১লা ফ্রেব্রুয়ারী ২০২৬ খ্রিঃ তারিখে স্মারক নং ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৭.১১-২১০ মাধ্যমে প্রজ্ঞাপন জার্রি করে মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ফের মোঃ ইউসুপ কে প্রাইজ পোষ্টিং বাগিয়ে দিয়েছেন। চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ মোঃ ইউসুপ কে বার বার কেন প্রাইজ পোষ্টিং দেয়া হচ্ছে ও এটা কিসের বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে এটা কারও অজানা নয়। এ বিষয়ে একাধিক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন মোটা অংকের খেলা হয়েছে এক মাসে মধ্যে ঢাকার দুইটি ওয়াকিং ডিভিশনে পদায়ন করা হবে। গণপূর্ত অধিদপ্তরে তিনি দুর্নীতি আর অদম্য লুটপাটের এক প্রকৌশলীরা অনুসরণ-অনুকরণ করে থাকেন। ফ্যাসিবাদ সরকারের পাচ বছর যাবৎ ইউসুপ ছিলেন ইএম কারখানা বিভাগের দায়িত্ব থাকাকলীন ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির কিছু চিত্র আজকের অনুসন্ধানে তুলে ধরা হলো। মোঃ ইউসুপ ভুয়া বিল ভাউচার পাশাপাশি প্রায় এবছর ছিলেন নাজমা এন্টারপ্রাইজসহ আরো একটি ব্যবসায়িক ফার্মের ব্যানারে গত পাচ অর্থবছরে বিভিন্ন প্রজেক্ট থোক বরাদ্ধ ডিপোজিটওয়ার্ক ও স্বাস্থ্য খাতের লাভজনক কাজগুলো পরোক্ষ ঠিকাদারী ব্যবসাসহ একচেটিয়া পার্সেন্টেজ বানিজ্য করে হাতিয়ে নিয়েছেন কম করে হলেও অর্ধশত কোটি টাকা। গত ৩১ জুলাই অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর এক আদেশে হাতে বদলী করা হলেও ডিভিশনাটিকে লুটপাটের ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে কমপক্ষে তিনবছর। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকৌশলী ইউসুপ ডিজিশনটিতে

থাকতে লুটপাটের সুবিধার্থে উন্নয়ন প্রকল্পের কোন কাজ ওটিএম না করে এলটিএম পদ্ধতিতে কাছের প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিয়েছেন। মোটা অংকের পার্সেন্টেজের বিনিময়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৯৯৮৩৬০৮.২২১ টাকা চুক্তিমূলে। সোবাহানবাগে বাংলাদেশ ইননিটটিউট অব ম্যানেজমেন্টী এর ফোর্স ভেন্টিলেশন সিসেস্টম বরাহ স্থাপন ট্রেন্টিং কমিশনিং কাজটি এলটিএম পদ্ধতিতে হোমল্যান্ড এজেন্সী নামে পাইয়ে দিয়েছেন। এই প্রকল্পে ফায়ার প্রোটেকশন ও এলার্নিং সিস্টেম অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা স্থাপণ এলইডি সাইনবোর্ড পিএবিএক্স ইন্টারকম সিস্টেম পিও কনফারেন্স সিস্টেম, ডিজিটাল কারপারর্কিং কাজগুলো নিয়ে অনিয়ম দুর্নীতির কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে প্রত্যাশী সংস্থা।
অনুসন্ধান করে আরও দেখা যায় একইভাবে এনবিআর ও বিটিআরসি প্রকল্পের সেন্ট্রাল এসি সিস্টেম লিফট গেট লাইট গার্ডেন লাইট বাউন্ডারী লাইট ব্র্যাকেট লাইট, এয়ারকুলার, সাবস্টেশন, সেন্ট্রাল এসি, ভিআরএফ সিস্টেম, মটরাইজড ও মডুলেটিং বাল্ব, সোলার প্যানেল সিস্টেম, পাম্প মটর সেট, সার্জ প্রটেকশন ডিভাইস, জেনারেটর, ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল ইলেট্রিফিকেশন, এইচটি এলটি লাইন, সাবমেইন ক্যাবল, ডিজিটাল এলইডি সাইনবোর্ড ও ডিসপ্লে সিস্টেম, নতুনভাবে গঠিত ই-ট্যাক্স ম্যনেজমেন্ট ইউনিটের কম্পিউটার ও অন্যান্য অফিস ষড়ঞ্জাম সরবরাহ ও স্থাপণ কাজসহ বিভিন্ন ধরণের বৈদ্যুতিক-যান্ত্রিক কাজগুলোতে সিডিউল বহির্ভূত ডিজাইন ও নকশার ব্যতয় ঘটিয়ে নিম্নমাণের কাজ করিয়ে বড় অংকের সরকারি বরাদ্দ লোপাট করেছেন। বিশেষ করে এনবিআর ও বিটিআরসি ভবনের সোলার প্যানেল উদ্বোধনের পর পরই অকার্যকর হয়ে যায় বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন সেন্ট্রাল এসি ও লিফট এর কাজে নিম্নমাণের চাইনিজ যন্ত্রাংশ ব্যবহার করার কারণে উদ্বোধনের পর থেকে প্রতিনিয়ত সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে এ ওই দুটি ভবন সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছে।

এছাড়াও জাতীয় বিজ্ঞান যাদুঘর, পিএসসি, আবহাওয়া অধিদপ্তর, ন্যাশনাল আর্কাইভ ও লাইব্রেরী ভবন, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন * কেন্দ্র, ঢাকা এস্টক এক্সচেঞ্জ, ইপিবি ভবন, এসএমআরসি, মানিক মিয়া – এভিনিউ এর ন্যাম ভবন, জাতীয় মানসিক হাসপাতাল, টিবি হাসপাতাল পঙ্গু ক্ষপাতাল, শিশু হাসপাতাল, কিডনী হাসপাতাল, পাসপোর্ট, এনআইএলজি, আগারগাঁও ও তালতলা স্টাফ কোয়ার্টার, সংসদ সচিবালয় কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন স্থাপনার বৈদ্যুতিক নির্মাণ মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজে গত ৫ অর্থবছরে লুটপাটের সুনামি চালিয়েছেন প্রকৌশলী ইউসুপ। এ নিয়ে প্রকৌশলী ইউসুপের মুখোশ উম্মেচনে দেশ ও জনস্বার্থে তুলে ধরা হলো।

নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুপ বর্তমান পরিবর্তিত অবস্থায় নিজেকে পরিচয় দিচ্ছেন একজন সাবেক শিবির ক্যাডার হিসেবে। অথচ তিনি চাকরি পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা কোটায়। আ’লীগের সময়ে সর্বমহলে নিজেকে পরিচয় দিতেন একজন প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধার ছেলে হিসেবে। মুক্তিযোদ্ধা ও আ’লীগার হিসেবে স্বৈরাচার সরকারের সময়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও সচিবালয়ে এসডিই হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্বে থেকে লুটপাটে হাত পাকিয়েছেন তিনি। তার সহকর্মীরা বলে থাকেন আসলে তিনি কোন দলের নয়, চরম সুবিধাবাদী। সচিবালয়ে দায়িত্বে থাকতে তিনি একজন শ্রমিককে গাড়ী চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছেন। সে বিষয়ে শাহবাগ থানায় ওই সময়ে মামলা হলেও বড় অংকের টাকায় দফারফা করেন এই প্রকৌশলী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকৌশলী ইউসুপের আরেক সহকর্মী জানায়, কখনো তিনি পীরসাব হুজুরের খানকার টাকা সাপ্লায়ার, কখনো ফ্যাসিবাদী মন্ত্রীর খাটের সঙ্গীর সাপ্লাইয়ার, আবার কখনো তিনি রঙ্গিন বোতলের বন্দোবস্তকারী ছিলেন বিগত বছরগুলোতে। এ রকম অসংখ্য গুণাবলীতে গুণান্বিত ইএম কারখানা বিভাগের এই সদ্য সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ইউছুপের চাকরি জীবন। তার এ ধরণের বিতর্কিত কর্মকান্ডে – অতিষ্ঠ অধস্তন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

আরো অভিযোগ রয়েছে, ডিভিশনটিতে থাকতে তিনি অফিসে বসতেন না। বাসা বিসিএফআইসিসি পিএসসি ইএম জোন অফিসসহ বিভিন্ন -স্থানে বসে ফাইলপত্র স্বাক্ষর করতেন এই প্রকৌশলী। এটি ছিলো তার
বেপরোয়া কমিশন বাণিজ্যের একটি কৌশল। উন্নয়নমূল প্রকল্পের কাজে ৫% ও এপিপির কাজে ১৫% থেকে ২০% টাকা আদায়সহ ঠিকাদারের সিকিউরিটি থেকেও পার্সেন্টেজ আদায় করতেন এই মহাঘুষখোড় দুর্নীতিবাজ লুটেরা প্রকৌশলী। ইতোপূর্বে একজন ঠিকাদার পাওনা আদায়ে তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দাখিল করেছিল। যা গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়ে উঠে এসেছিল। এর পর তড়িঘড়ি করে উক্ত ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করেছিলেন তিনি।

শুধু তাই নয়, অবৈধ অর্থের জোড়ে কারণে-অকারণে সুযোগ পেলেই এ বিদেশ ট্যুরের নামে প্রমোদ ভ্রমনের নেশায় ছিলেন প্রকৌশলী ইউসুপ। বৈধ/অবৈধভাবে বছরে ২/৩বার ভারত মালয়েশিয়া থাইল্যান্ড সিঙ্গাপু-রসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভ্রমন করতেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে কখনো কখনো কথিত বান্ধবী নিয়ে ট্যুরে থাকতেন দুই সপ্তাহের জন্য। এই সমস্ত চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকারের অন্যতম দোসর আবারও প্রাইজ পোষ্টিং বাগিয়ে নিয়ে যান তাহলে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বিফলে যাবে ও জুলাই যোদ্ধাদের রক্ত বিফলে চলে যাবে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর